মিসরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা: উচ্চশিক্ষার নতুন গন্তব্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪:৩০

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং মালয়েশিয়া-এর মতো দেশগুলোর নাম বেশি শোনা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজ, মেডিসিন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আরবি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে মিসর একটি জনপ্রিয় দেশ।
বর্তমানে
মিসরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫,০০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যা
প্রতিবছর বাড়ছে। মিসরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের কারণ, সুযোগ-সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করা হলো।
কেন
মিসর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়?
বাংলাদেশি
শিক্ষার্থীদের মিসরে পড়াশোনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১.
ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক শিক্ষা
মিসরে
অবস্থিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং মর্যাদাপূর্ণ ইসলামিক শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ থেকে বহু শিক্ষার্থী কোরআন, হাদিস, ফিকহ এবং ইসলামিক দর্শন বিষয়ে
উচ্চশিক্ষার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
২.
সাশ্রয়ী ব্যয়
অন্যান্য
ইউরোপীয় বা পশ্চিমা দেশের তুলনায় মিসরে উচ্চশিক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
বার্ষিক
বিশ্ববিদ্যালয় ফি ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে।
আবাসন
ও অন্যান্য খরচও মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের তুলনায় কম, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক।
৩.
মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সুযোগ
মিসরের
কায়রো ইউনিভার্সিটি, আলেকজান্দ্রিয়া ইউনিভার্সিটি, আইন শামস ইউনিভার্সিটি-তে মেডিসিন,
ডেন্টাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের
মধ্যে বিশেষ করে কায়রো ইউনিভার্সিটির মেডিকেল ফ্যাকাল্টি জনপ্রিয়।
৪.
আরবি ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা
মিসর
আরবি ভাষা শেখার অন্যতম আদর্শ স্থান। ইসলামিক স্কলার হতে চাইলে আরবি ভাষার দক্ষতা থাকা
জরুরি, তাই অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আরবি ভাষা ও সাহিত্য পড়তে মিসরে যান।
৫.
সহজ ভিসা ব্যবস্থা ও স্কলারশিপ
বাংলাদেশি
শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ।
মিসর
সরকার এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি
(Scholarship) দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশি
শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ
১.
ভাষাগত সমস্যা
মিসরের
বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান আরবি ভাষায় হয়, যা ইংরেজিভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
তাই আরবি শেখা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।
২.
আবাসন ও জীবনযাত্রা
কায়রো
এবং আলেকজান্দ্রিয়ার মতো শহরগুলোতে থাকার ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
আবাসিক সুবিধা সীমিত থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে নিজ উদ্যোগে বাসা ভাড়া নিতে হয়।
৩.
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ
বাংলাদেশি
শিক্ষার্থীরা মিসরের নতুন সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে কিছুটা সময় নেন। খাদ্যাভ্যাস
ও জীবনধারার পার্থক্যের কারণে শুরুতে অনেক শিক্ষার্থী মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়েন।
৪.
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
মিসরে
মাঝে মাঝে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার
বিষয়ে মিসর সরকার বেশ আন্তরিক।
বাংলাদেশ-মিসর
শিক্ষা সম্পর্ক
বাংলাদেশ
এবং মিসরের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এবং মিসরীয়
দূতাবাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
সুবিধার্থে মিসরের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি ছাত্র সমিতি (Bangladeshi
Student Association) রয়েছে, যা নতুন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে।
মিসর
বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজ, মেডিসিন ও আরবি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে মিসরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করছে। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা
ও বৃত্তির সুযোগ মিসরকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে।
ভবিষ্যতে
বাংলাদেশ-মিসর শিক্ষা বিনিময় আরও বাড়লে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশি
শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারবে।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট