Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আফ্রিকা মহাদেশে সম্ভাবনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ১১:৩৭

আফ্রিকা মহাদেশে সম্ভাবনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ

দেরিতে হলেও আফ্রিকা মহাদেশে সম্ভাবনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। আফ্রিকার ৫৪টি দেশ এবং তিন ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস আয়োজিত ‘লুক আফ্রিকা: এক্সপ্লোরিং নিউ হরাইজন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও আফ্রিকায় রূপান্তর হচ্ছে এবং এই বিবেচনায় উভয়ই লাভবান হতে পারে।’

আমরা শোষণ করতে চাই না, বরং সহযোগিতা করতে চাই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুদানে একজন বাংলাদেশির তুলা স্পিনিং কারখানা রয়েছে এবং তারা বিদেশে পণ্য বিক্রি করে। এমনকি যুদ্ধের সময়েও তার ব্যবসার কোনো ক্ষতি হয়নি।’

বাংলাদেশিরা অনেক দিন ধরে আফ্রিকায় যোগাযোগ রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল, সেই সময়েও বাংলাদেশিরা সেখানে গিয়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে ছোট ছোট দোকানের মালিক বাংলাদেশিরা। এমনকি তারা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কৃষি পণ্য কিনে শহরে এনে বিক্রি করছে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য মেলায় একটি ইথিওপিয়ান স্টলে একজন বাংলাদেশিকে কাজ করতে দেখেছি। আগ্রহী হয়ে সেখানে কাজ করার কারণ জানতে চাইলে ওই তরুণ আমাকে জানালো, ইথিওপিয়ায় তাদের কারখানা আছে। এছাড়া আফ্রিকার মরিসাস ও লেসোথোতেও তাদের বিনিয়োগ আছে।

বাংলাদেশে ইথিওপিয়ার অনারারি কনসাল সামস মাহমুদ জানান, আফ্রিকানরা কীভাবে চিন্তা করে, সেটি জেনে সেখানে ব্যবসা করা প্রয়োজন।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, ইথিওপিয়ায় চীনের একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ব্যবসা করার আগ্রহ প্রকাশ করলে, তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন ওই দেশের একজন মন্ত্রী। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। প্রথম ব্যবসায়ী সর্বনিম্ন মজুরি কত জানতে চাইলে মন্ত্রী তার আবেদন কেটে দেন। পরের জন ইথিওপিয়ার সরকারের কাছে প্রতিবছর তার পরিবারের জন্য চীন থেকে ইথিওপিয়ায় ভ্রমণের চারটি বিজনেস ক্লাস টিকিট চাইলে, তার আবেদনও তিনি কেটে দেন। পরে আমি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, যখন সর্বনিম্ন মজুরির কথা চীনা ব্যবসায়ী জানতে চেয়েছেন, তখন আমার শ্রমিক শোষণের কথা মনে হয়েছে। যখন ব্যবসায়ী বিজনেস ক্লাসের সুবিধা চেয়েছেন, তখন আমার মনে হয়েছে যে, ব্যবসায়ী চারটি বিজনেস ক্লাস টিকিট কাটতে পারে না, সে কীভাবে আমার দেশে বিনিয়োগ করবে। তাদের চিন্তাভাবনা অনেক পরিষ্কার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের সাবেক মহাপরিচালক এএফএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, আফ্রিকায় অনেক সম্ভাবনা আছে এবং একই সঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জও আছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার জন্য সেখানে যেতে হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

Logo