এশিয়ার শেনজেন!
এক ভিসায় ছয় দেশ: প্রস্তাব থাইল্যান্ডের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:০৬

ভাবুন তো আপনি থাইল্যান্ডের ভিসা নিলেন, কিন্তু ঘুরে আসতে পারলেন আশে পাশের ছয় দেশ এক ভিসাতেই। ঠিক যেমন ইউরোপের শেনজেন ভিসার বেলায় হয়। এমনই এক ধারণা সামনে এনেছে থাইল্যান্ড, আর তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে ভিয়েতনাম। আসিয়ানভুক্ত ‘ছয় দেশ, এক গন্তব্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে, আঞ্চলিক ভ্রমণ, পর্যটন জোরদারের পরিকল্পনা করছে দেশগুলি। কোন কোন দেশগুলোকে নিয়ে এমন পরিকল্পনা হচ্ছে? এই পরিকল্পনায় যুক্ত হতে চায় থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার।
কিন্ত এমন পরিকল্পনা কেন করছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম?
মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ্ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডে ২০২৪ সালে ৩৫.৫ মিলিয়ন পর্যটক গেছে। যা আগের বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। আর এর মূল কারণ ছিল সহজ ভিসা নীতি।
অন্যদিকে, একই বছরে ভিয়েতনামে গেছেন ১৭.৬ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক। এমনকি মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বিগত বছরে ৩৮ মিলিয়ন পর্যটক গেছেন দেশটিতে। যা পর্যটকের আগমণ নিয়ে তাদের আগের ধারনাকে ছাড়িয়ে গেছে।
পর্যটক বাড়লে কেমন করে লাভবান হবে দেশগুলো?
বেশি পর্যটক মানেই বেশি ব্যবসা, বেশি ফ্লাইট, এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।পর্যটকদের আনাগোনা মানেই হলো স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যের সমৃদ্ধি।আর এটাইকেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে নিতে চায় দেশগুলো।
তারই অংশ হিসেবে, ফেব্রুয়ারির ২৩-২৫ তারিখ ভিয়েতনামে সরকারি সফরের সময় থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সাংগিয়াম্পংসা ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল ব্যবসা — বিশেষ করে পর্যটন ব্যবসা বাড়ানোর উপায়।
মূল লক্ষ্য: “ছয় দেশ, এক গন্তব্য” উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক ভ্রমণ সংযোগ জোরদার করা।
ধারণাটি সহজ হলেও বিপ্লবী বলেই গণ্য করা হচ্ছে, যেখানে ছয়টি দেশের জন্য একটি মাত্র ভিসা, যা পর্যটকদের এই ৬ দেশে ঘুরতে, একাধিক অনুমতির ঝামেলা ছাড়াই সীমান্ত পার হবার সুযোগ দেবে।
যদিও এই প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে এটা পরিষ্কার — দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বড় স্বপ্ন দেখছে। বড় ধরনের ঝঁকি না থাকলে, এটা বাস্তবায়ন করতেও পারে আসিয়ানের ছয় দেশ।
রিপোর্ট মাইগ্রেশন কনসার্ন।
তথ্যসূত্র: গালফ্ নিউজ