রাশিয়ায় তীব্র কর্মী সংকট; ভিনদেশ থেকে কর্মী নেয়ার চিন্তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৫, ১১:১২

রাশিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে ব্যাপক শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রতিরক্ষা কাজে ব্যাপক কর্মী নিয়োগ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতির ফলে বিভিন্ন বেসামরিক খাতে শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা
খাতের টানাটানি
২০২২
সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে দ্রুত কর্মী
নিয়োগ চলছে। দেশটির সামরিক খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে অনেক বেসামরিক শ্রমিক এখন প্রতিরক্ষা
শিল্পের দিকে ঝুঁকছেন। এ কারণে পরিবহন, নির্মাণ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও পুলিশ বিভাগেও
শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সভার্দলভস্ক
অঞ্চলে কর্মসংস্থানের জন্য ৫৪,৯১২টি শূন্যপদ রয়েছে, যেখানে বেকারত্বের সংখ্যা মাত্র
৮,৭৬২। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ফেডারেল জেলায় প্রতি বেকারের জন্য ৯টি শূন্যপদ রয়েছে,
যা সংকটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
উচ্চ
বেতনে সামরিক চাকরি
বেসামরিক
শিল্পের তুলনায় সামরিক শিল্পে বেতন অনেক বেশি হওয়ায় অনেক শ্রমিক প্রতিরক্ষা খাতে
যোগ দিচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, তাতারস্তানের আলাবুগা অঞ্চলে ড্রোন সংযোজনের কাজে বেতন
কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় অনেক কর্মী এই শিল্পে চাকরি নিচ্ছেন।
সভার্দলভস্ক
অঞ্চলে যারা ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিচ্ছেন, তাদের জন্য এককালীন সাইনিং বোনাস ২.১ মিলিয়ন
রুবল ($১৮,৫৬০) নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশটির গড় মাসিক বেতনের ২৫ গুণ।
নির্মাণ
ও কৃষি খাত শ্রমিক সংকটের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রায় ২,০০,০০০
শ্রমিক কৃষিক্ষেত্র ত্যাগ করেছেন। এই সংকট ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে সংগ্রহ পর্যন্ত
প্রভাব ফেলছে।
রাশিয়ার
পুলিশ বিভাগেও সংকট দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই বিভাগে ১,৭৩,৮০০ শূন্যপদ
ছিল, যা মোট জনবলের ১৮.৮%। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতেও সংকট তীব্র হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে,
আগামী ৫-৭ বছরে চিকিৎসক সংকট ৪০-৪৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
অভিবাসী
শ্রমিকদের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে শ্রম বাজারে আরও সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা
মনে করছেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালে ৩.৯% থেকে কমে ২.৫% হতে পারে। সরকার
তরুণ, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের কাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওভারটাইমের অনুমতি
দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা
বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতিতে নতুন করে ২.৪ মিলিয়ন কর্মীর চাহিদা তৈরি
হবে। শ্রম সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে
দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তথ্যসূত্র:
রয়টার্স