দিল্লির সাথে সুসম্পর্ক চায় ঢাকা; আবার ভিসা চালু হবার প্রত্যাশা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৫, ১১:১৫

ঢাকা একটি ভালো কর্মসম্পর্ক চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, "আমরা আশা করি, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে এবং বাংলাদেশিদের আবার ভিসা দেবে।"
৪ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, "আমরা সব সময় বলেছি যে, ভারতের সঙ্গে আমরা একটি ভালো কর্মসম্পর্ক
চাই। এ ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।"
সুসম্পর্ক
বজায় রাখার ক্ষেত্রে উভয় দেশেরই স্বার্থ রয়েছে উল্লেখ করে তৌহিদ বলেন, বিবিসিকে
দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তা স্পষ্ট করেছেন।
বাংলাদেশিদের
ভিসা দেয়ার বিষয়ে কোনো সুসংবাদ আছে কি না জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, "এটি ভারত
সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। তবে, আমরা
আশা করি ভারতীয় হাই কমিশন ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে এবং তাদের কার্যক্রম
আরও সম্প্রসারিত করবে।"
গত
বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে ভারত বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদান কমিয়ে দেয়। নয়াদিল্লির কাছে শেখ হাসিনাকে
প্রত্যর্পণের অনুরোধ করলেও ঢাকা এখনো সাড়া পায়নি।
তিস্তা
প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, "দুই দেশের মধ্যে একটি
সমঝোতা স্মারক রয়েছে এবং এর অধীনে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উভয় দেশ একসঙ্গে
কাজ করতে পারে। তবে তিস্তা নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।"
পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারির শেষের দিকে চীন সফরের সময় ইয়ারলুং
সাংপো নদীতে চীনের বৃহত্তম ড্যাম এবং বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর এর প্রভাবের
বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
"চীনের
পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ ড্যাম থেকে পানি
প্রত্যাহার করা হবে না," জানান এক কর্মকর্তা।
এছাড়া,
বাংলাদেশে গণতন্ত্র উন্নয়নের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের
বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন,
"এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রভাবিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা
নেই।"
গত
২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি
সংস্থাকে ২৯ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি
তদন্ত করে দেখেছে। তবে অভিযোগটি সত্য নয় বলে মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তথ্যসূত্র: দি ডেইলি স্টার