
প্রবাসী বাংলাদেশিরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই বসবাস করুক আর যতই প্রতিকূলতাই থাকুক, তারা পবিত্র রমজানে রোজা পালন করার চেষ্টা করেন। ঠিক তেমনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরাও শত কষ্টের মাঝেও পুরো রমজান মাস রোজা পালন করার চেষ্টা করেন।
দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার একটি উন্নত দেশ হলেও মুসলিমদের কাছে অমুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় মুসলিমদের সংখ্যা অনেক কম। তবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, মরক্কো ও উজবেকিস্তান থেকে আসা অভিবাসী মুসলিমের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
কাজপাগল দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। এখানে কাক ডাকা ভোরে কারখানার মেশিনের শব্দে ঘুম ভাঙে প্রবাসীদের। এদেশে প্রবাসী মুসলিমদের রোজা পালন অনেকটাই কষ্টের। কাজের ফাঁকে সেরে নিতে হয় সেহরি ও ইফতার।
রমজান এলে বাহির থেকে ইফতারি কেনার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের মতো করে ইফতার সেরে নেন প্রবাসীরা। ভোজন রসিক বাঙালিদের ইফতারে ছোলা-মুড়ি না হলে চলেই না। বাহারি সব ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে মুড়ি, ছোটা, পেঁয়াজু, বড়া ও আলুর চপ থাকবেই।
তবে সাপ্তহিক ছুটির দিনে বন্ধুদের নিয়ে চলে নিজেদের তৈরি রকমারি ইফতারের আয়োজন। এ সময় নিজেদের সাধ্যমত কয়েক পদের ইফতার তৈরি করার সময় পান প্রবাসীরা। আবার শনিবার ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কোরিয়ার মসজিদগুলোতে থাকে ইফতারের আয়োজন।
বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশির বসবাস এই দক্ষিণ কোরিয়াতে। কোরিয়াতে এসব মুসলিমের জীবনযাপন অনেকটাই কষ্টের। একজন মুসলিমের জন্য নামাজ রোজা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে খাবারের হালাল-হারামের বিষয়টিও তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
দেশের মানুষ সাধারণত মাংস থেকে শুরু করে যেকোনো খাবার চোখ বন্ধ করে কিনে নিয়ে অনায়াসে খেতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়াতে এর একেবারেই ব্যতিক্রম। বাহির থেকে মাংস দুরের কথা একটা চিপসও খেতে চাইলেও চিপসের গায়ে ভালো করে পড়ে দেখতে হয় এটি হালাল নাকি হারাম!
কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কোরীয় মুসলিম সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার যা কোরিয়ার জনসংখ্যার ০.৪ শতাংশ। আর অভিবাসী মুসলিমের সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি।
তথ্যসূত্র: সময় অনলাইন