Logo
×

Follow Us

এশিয়া

লম্বা বন্ধে ডাকছে হিমালয়কন্যা নেপাল

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৫, ১১:২৮

লম্বা বন্ধে ডাকছে হিমালয়কন্যা নেপাল

নেপালের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বরফেঘেরা সারি সারি পাহাড়। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য নেপাল খুবই উপযুক্ত একটি জায়গা। উঁচু পাহাড়ে ট্রেকিং থেকে শুরু করে প্যারাগ্লাইডিং এবং বাঞ্জি জাম্পিংয়ের মতো দুর্দান্ত সব অ্যাডভেঞ্চার অ্যাকটিভিটির জন্য এক নামে পরিচিত নেপাল। তবে এসব অ্যাকটিভিটি ছাড়াও সব ধরনের ভ্রমণপিপাসুদের জন্যই নেপালে কিছু না কিছু রয়েছে।

কী আছে দেখার মতো?

ইতিহাসপ্রেমীরা ঘুরে দেখতে পারেন কাঠমান্ডুতে অবস্থিত দরবার স্কয়ার। তৎকালীন রাজাদের আমলে জনসাধারণের একত্রিত হওয়ার জন্য এই দরবার চত্বরকে ব্যবহার করা হতো। ঐতিহাসিক এই জায়গায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় বেড়েছে দোকান ও মার্কেট। হয়েছে আরও জমজমাট। কাঠমান্ডু শহরের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে আছে দেখার মতো অনেক মন্দির। এর মধ্যে পশুপতিনাথ মন্দির, স্বয়ম্ভূনাথ মন্দির ও নমো বুদ্ধ মন্দির উল্লেখযোগ্য।

কাঠমান্ডু ঘোরা শেষ করে প্রকৃতিপ্রেমীরা ঘুরে আসতে পারেন পোখারা, নাগারকোট ও বানদিপুর। পোখারায় আছে বহু লেক ও ঝরনা। ফেওয়া লেক পোখারার অন্য রকম সৌন্দর্য। চোখধাঁধানো এই লেকে আরাম করে বোটে ঘুরে বেড়ানো খুবই মনোরম একটি স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া সারাংকোট হিল থেকে দেখা যাবে মনে রাখার মতো হিমালয়ের ঝলক।

পোখারাতেই মূলত অ্যাডভেঞ্চার অ্যাকটিভিটিগুলো একসঙ্গে পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্যারাগ্লাইডিং অন্যতম। অনেকেই শুধু আকাশে ভেসে থাকার এই রোমাঞ্চকর অনুভূতি নেয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। পোখারায় হাইকিংয়ের জন্য বেশ কিছু ট্রেইলও রয়েছে। যারা পাহাড় ভালোবাসেন এবং পাহাড়ের জনজীবনে মিশে গিয়ে প্রকৃতি পাহাড়ের রহস্য উদ্ঘাটন করতে চান, তাদের জন্য আজীবনের অভিজ্ঞতা হবে এই নেপাল ভ্রমণ।

নেপালের খাবার কেমন?

ঘোরাঘুরির একটা বড় অংশজুড়ে থাকে খাবার। নেপালে গেলেই রাস্তার পাশে ছোট দোকান হোক বা বড় কোনো রেস্তোরাঁ—সবখানেই যে খাবারটা সবাই উপভোগ করেন, তা হলো মোমো। মোমোর স্বাদ না নিয়ে নেপাল থেকে ফেরত আসাটা উচিত হবে না।

কীভাবে ভিসা পাবো?

নেপালে সার্কভুক্ত দেশ তথা বাংলাদেশিদের জন্য বিনামূল্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা আছে। নেপালের ভিসা পেতে আপনাকে নেপাল দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্ম পূরণের সময় আপনাকে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে-

পাসপোর্ট সাইজ ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদ

পাসপোর্ট 

সুপারিশপত্র (যদি থাকে) 

সাধারণত ১ দিন লাগে নেপালের ভিসা পেতে। নেপালে যাওয়ার দুটি পদ্ধতি আছে– বাই রোড অথবা বাই এয়ার। বাই রোডে খরচ কম কিন্তু কোভিডের কারণে নেপাল ভ্রমণ বাই রোডে বন্ধ আছে। প্লেনে নেপাল যেতে হলে ১৭,৫০০ থেকে ভাড়া শুরু। ঢাকা থেকে নেপাল বিমানের সাশ্রয়ী টিকেট পাওয়ার জন্য কমপক্ষে এক মাস আগে টিকেট কেটে রাখলে ভাড়া অনেক কম পড়বে। ঢাকা থেকে নেপাল যেতে দেড় ঘণ্টার মতো লাগে।

ধরি আপনি কাঠমান্ডু ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে নামলেন। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার সময় হাতে করে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টগুলো নিয়ে যেতে হবে-

রিটার্ন প্লেন টিকেট

ট্যুর প্ল্যান (হোটেল বুকিংয়ের কাগজ)

পাসপোর্ট

ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর অল্প কিছু ডলার এক্সচেঞ্জ করে নিন বিমানবন্দরের মানি এক্সচেঞ্জ বুথ থেকে। বিমানবন্দরে সাধারণত রেট কম দেয় তাই খুব বেশি টাকা এক্সচেঞ্জ করার দরকার নেই। শহর থেকে বাকিটা করে নেবেন। বিমানবন্দরের বুথে ভারতীয় রুপি এক্সচেঞ্জ করে না। মানি এক্সচেঞ্জ করার পর নেপাল টেলিকমের একটা সিম কিনে নিন। ৫০০ নেপালি রুপি পড়বে সিমের দাম।

খরচ কেমন?

কাঠমান্ডুতে দর্শনীয় স্থানগুলো মোটামুটি কাছাকাছি হওয়ায় তেমন খরচ নেই বললেই চল। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য মন্দিরগুলোর টিকেট বিদেশিদের থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম দামে পাওয়া যায়।

খাবার এর থালি নেপালে ১৫০-৩০০ রুপির মধ্যে পাওয়া যায়। তাই থাকা-খাওয়া ও বেড়ানোর খরচ মিলিয়ে কমের মধ্যে হয়ে যাবে। জনপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকার মধ্যে খুব ভালোভাবে এসব দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন।

থাকতে হলে থামেলের চেয়ে উপযুক্ত স্থান আর দ্বিতীয়টি নেই। কারণ পুরো থামেলের গলি ঘুপচিতে অসংখ্য হোটেল/ ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল রয়েছে। ১০০০ থেকে ১৮০০ রুপির মধ্যে ভালো ডাবল রুমের হোটেল এখানে পাওয়া সম্ভব। ৪০০ রুপিতে সিঙ্গেল রুমের হোটেলও এখানে আছে। বাজেট আরেকটু বেশি যেমন- ৩ হাজার রুপি বা তার বেশি হলে ডিলাক্স রুমের খাবারসহ অনেক ভালো হোটেল পাওয়া যায়। 

তথ্যসূত্র: অনলাইন

Logo