Logo
×

Follow Us

এশিয়া

ঈদের লম্বা ছুটির তিন দিন, ঘুরে আসুন নয়নাভিরাম ভুটান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৫, ১১:৩১

ঈদের লম্বা ছুটির তিন দিন, ঘুরে আসুন নয়নাভিরাম ভুটান

আমাদের পাশের বাড়ির দেশ ভুটান, রহস্যময় পাহাড়ি দেশ ভুটান। পৃথিবীর একমাত্র জিরো কার্বন নিঃসরণের দেশ ভুটান। বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে দেশটি বিখ্যাত এর চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক নৈসর্গের মাঝে তাদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলো। রোমাঞ্চকর ভ্রমন, আকশছোঁয়া পর্বত, প্রায়ান্ধকার পাহাড়ি বন, নদী, লেক, মন্দির আর স্বতন্ত্র স্থাপত্য শিল্পকর্মের সাক্ষী হতে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিশ্বপরিব্রাজকরা ভীড় করেন এই দেশটিতে। বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে বাজেট ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পছন্দের দেশ ভুটান। চলুন জেনে নেই কী কী দেখার আছে এই দেশটিতে।

থিম্পু

রাজধানী শহর থিম্পুতে হাঁটা দূরত্বেই দেখা যাবে থিম্পু নদী, মেমোরিয়াল চর্টেন, সিটি ভিউ পয়েন্ট, ক্লক টাওয়ার, থিম্পু জং, পার্লামেন্ট হাউস, লাইব্রেরি ও থিম্পু জং। শহর থেকে একটু দূরেই রয়েছে বুদ্ধ দর্দেন্মা স্ট্যাচু, থিম্পু ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চর্টেন ও চিড়িয়াখানা, যেখানে সংরক্ষিত আছে ভুটানের জাতীয় পশু তাকিন।

পুনাখা

এখানে কম সময়ে অনেকগুলো পর্যটন এলাকা ঘোরার উপায় হচ্ছে সর্বপ্রথম দোচুলা পাস যাওয়া। অবশ্য পুরো দোচুলা পাস ঘুরতে প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। তবে ফেরার পথে একে একে পড়বে পুনাখা জং, আর্ট স্কুল, ন্যাশনাল লাইব্রেরি ও ফোক হেরিটেজ জাদুঘর। ভুটানের যে স্থানটি রাফটিংয়ের জন্য জগদ্বিখ্যাত, সেটি হচ্ছে এই পুনাখা। রাফটিংয়ের জন্য এই শহরে একটা দিন থাকা উচিত।

লাখাং মন্দির, তালো মনস্ট্রি ও পেলিরি মন্দির ঘুরে চলে যাওয়া যেতে পারে ফু ছু নদীতে। এখানে রাফটিংয়ের সময় চোখে পড়বে সাসপেনশন ব্রিজ। এছাড়া পুনাখার নান্দনিক ঐশ্বর্যের পরশ পেতে ঘুরে আসা যেতে পারে টর্সা ন্যাচারাল রিজার্ভার ও ন্যাশনাল পার্ক।

পারো

ভুটানের সর্বোচ্চ রাস্তা চেলে লা পাস অবস্থিত এই শহরে। মেঘমুক্ত দিনে এই রাস্তা থেকে চোখে পড়ে দূরের জলমহরি পর্বত। পারোর জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে টাইগারস নেস্ট, রিনপুং জং, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, পারো মনস্ট্রি, পারো চু ও কিচু মনস্ট্রি। শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের খাঁজে রয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান তাং সাং। হিমালয়ের এই দর্শনীয় জায়গাটি দেখার জন্য পারোতে ন্যূনতম একটি দিন অবশ্যই থাকতে হবে।

ভুটানের ট্যুরিস্ট ভিসা

বাংলাদেশের পর্যটকরা আগমনী ভিসা (অন-অ্যারাইভাল) নেয়ার মাধ্যমে ভুটান ভ্রমণে যেতে পারবেন। ভুটানে প্রবেশের মুহূর্তে আবেদন করে তাৎক্ষণিকভাবে এই ভিসা পাওয়ার বিধান থাকলেও বাংলাদেশে থাকা অবস্থাতেই ভিসার আবেদন করা উচিত। কারণ অন-অ্যারাইভাল ভিসার প্রক্রিয়াকরণের মুহূর্তে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

আবেদনের জন্য ভুটান ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস পোর্টালে https://immi.gov.bt/ সাইন আপ করতে হবে। এই অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথি আপলোডের প্রয়োজন পড়বে। চূড়ান্তভাবে সাবমিটের সময় ভিসা ফির সঙ্গে এসডিএফ (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি) দিতে হবে।

পর্যটন ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

– প্রার্থীর বৈধ পাসপোর্টের কপি। পাসপোর্টের মেয়াদ ভুটানে পৌঁছার তারিখ থেকে কমপক্ষে আগামী ৬ মাস পর্যন্ত হতে হবে।

– প্রার্থীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি

বাংলাদেশ থেকে ভুটান যাওয়ার উপায়

ভুটানের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত পারোতে, যেখান থেকে সরাসরি বিমান চলাচল করে ঢাকাতে। সবচেয়ে নির্ঝঞ্ঝাট হলেও এই আকাশপথে বেশি ভাড়া গুনতে হবে। শুধু যেতে জনপ্রতি ভাড়া পড়তে পারে প্রায় ৪১ থেকে ৭১ হাজার টাকা।

থিম্পু থেকে পারো গিয়ে তারপর সেখান থেকে পুনাখা ঘুরে আসলে সময় বেশি লাগে, তবে যাতায়াত খরচ অনেক কম হয়। তবে থিম্পু থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে বা বাসে সরাসরি পুনাখাতেও যাওয়া যায়। শহরের অভ্যন্তরে যাতায়াতের সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হলো রেন্ট-এ কার বা ট্যুরিস্ট সার্ভিসগুলোর কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া করা।

দ্রুক রাইড অ্যাপের মাধ্যমে ভুটানের স্থানীয় গাড়ি ভাড়া, বিমানের টিকিট ও ট্যুর অপারেটর বুকিং দেওয়া যায়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক হোটেলে থেকেও পরিবহন সরবরাহ বা ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

ভুটান ভ্রমণে থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা

থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো শহর হচ্ছে পারো। এখানে প্রধান সড়কের পাশেই বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাওয়া যায়। এগুলোতে প্রতি রাতের জন্য ভাড়া জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৯০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা।

থিম্পুর হোটেলগুলো বেশ ব্যয়বহুল; ১ হাজার ৮০০ থেকে শুরু করে ১৬ হাজার ভুটানি রুপি। বাংলাদেশি টাকায় এই খরচ প্রায় ২ হাজার ৫৬২ থেকে ২২ হাজার ৭৭৪ টাকা (১ ভুটানি রুপি = ১ দশমিক ৪২ বাংলাদেশি টাকা)। পুনাখায় থাকার ক্ষেত্রে শহরের বাইরের হোটেলগুলো অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী। সেখানে রাত্রি যাপনের জন্য মাথাপিছু ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া নিতে পারে।

ভুটানের যে খাবারটি পর্যটকদের মনে জায়গা দখল করে আছে তা হলো ডর্টসি। এটি আসলে গরুর দুধের পনির। এর সঙ্গে আরো বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে স্বাদে ভিন্নতা এনে ভিন্ন নাম দেয়া হয়। যেমন- এমা ডর্টসি, কেওয়া ডর্টসি, খেমা ডর্টসি ও এগা ডর্টসি।

থিম্পুর বিশেষ খাবারের মধ্যে আরো আছে জাশামারো, ফাকশাপা ও মোমো। তবে পারোর অধিবাসীরা নিরামিষ খাবারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

ভুটান ঘুরে বেড়ানোর সময় কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা

– যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং ঘুরে বেড়ানো সবকিছুতে খরচ আরও কমাতে চাইলে অফ সিজনে ঘুরতে যাওয়া উত্তম। এর জন্য অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল এই চার মাস বাদ দিয়ে ভ্রমণ করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে ন্যূনতম তিন মাস আগে থেকে বিমানের টিকেট কাটলে ভাড়ায় অনেকটা ছাড় পাওয়া যাবে।

– ভুটানের এটিএম বুথগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারিগরি সমস্যা থাকে। এমনকি প্রায় ক্ষেত্রে বুথে বেশি টাকা থাকে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিদিনের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বিকল্প উপায় রাখতে হবে।

– মোবাইলে চার্জসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সঙ্গে একটি ইউনিভার্সাল অ্যাডাপ্টার রাখা উচিত।

– বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানগুলো পরিদর্শনের সময় সেখানকার ভাবগাম্ভীর্য ও নির্দেশনাবলি অনুসরণ করা উচিত।

তথ্যসূত্র: অনলাইন

Logo