
বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসেই প্রচুর ভ্রমণকারী চীনে ব্যবসায়িক, শিক্ষা ও পর্যটনের উদ্দেশে আসা-যাওয়া করেন। আবার অনেকেই চীনে ভ্রমণ করতে আগ্রহী। যেহেতু চীনে ভ্রমণ ব্যয় সাশ্রয়ী এবং দূরত্ব কম, তাই দেশটিতে ভ্রমণেচ্ছুদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
চীনের ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ ও ভিসা খরচ কম। ঢাকায় চীনের দূতাবাসে ভিসা আবেদনের বিস্তারিত তথ্য দেয়া থাকে। আগ্রহী প্রার্থীদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করার অনুরোধও জানানো হয়েছে ওয়েবসাইটের সংশ্লিষ্ট পেজে।
ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চীন বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ইস্যু করে। এর মধ্যে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য রেগুলার ডেলিভারি (৪ কর্ম দিবস) নিলে ২৪০০ টাকা, এক্সপ্রেস ডেলিভারির (৩ কর্ম দিবস) জন্য ৫১০০ টাকা ও আর্জেন্ট ডেলিভারির (২ কর্ম দিবস) জন্য লাগবে ৬৪০০ টাকা। ডাবল এন্ট্রি ভিসার জন্য যথাক্রমে ৩৬০০, ৬৩০০ ও ৭৬০০ টাকা লাগে, ছয় মাসের মাল্টিপল ভিসার জন্য ৪৮০০, ৭৫০০ ও ৮৮০০ টাকা লাগে। কেউ যদি এক বা দুই বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা নিতে চায়, সে ক্ষেত্রে ৭২০০, ৯৯০০ ও ১১২০০ টাকা জমা দিতে হবে।
চীনের ভিসা আবেদনে প্রাথমিকভাবে যে ডকুমেন্টসগুলো জমা দিতে হয়:
- ভিসা আবেদনের ফরম (https://consular.mfa.gov.cn/VISA/ এ লিংকে আবেদন ফর্ম পাওয়া যায়)
- ৬ মাসের মেয়াদসহ পাসপোর্ট। (একাধিক/পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সবকটিই জমা দিতে হবে)
- ন্যাশনাল আইডি কার্ড অথবা ১৮ বছরের কম হলে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৩.৫ সেমি x ৪.৫ সেমি) (ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা)।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট সর্বশেষ ৩ থেকে ৬ মাসের (ব্যালান্স কমপক্ষে ২.৫-৩ লক্ষ্য টাকা বা তার বেশি) + ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট (মোট ব্যালান্স উল্লেখ থাকা ভালো, তবে আবশ্যক নয়) ।
এছাড়া শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ডকুমেন্টস, ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিজনেস ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়। প্রথমে ভিসা আবেদন জমা দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। পরে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়ার জন্য তারিখ দেয়া হয়। সে তারিখে উল্লেখিত ডকুমেন্টস, ফিঙ্গার প্রিন্ট ও টাকা জমা দিলে ভিসা প্রদান করা হয়।
চীনের ভিসার ধরন আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। সাধারণ ভিসার ধরনগুলো হলো:
ট্যুরিস্ট ভিসা (L ভিসা): ভ্রমণের জন্য।
বিজনেস ভিসা (M ভিসা): ব্যবসায়িক কাজের জন্য।
স্টুডেন্ট ভিসা (X ভিসা): পড়াশোনার জন্য।
কর্ম ভিসা (Z ভিসা): চীনে কাজ করার জন্য।
ডকুমেন্টস ঠিকঠাক থাকলে ভিসার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইট