Logo
×

Follow Us

পরামর্শ

ঈদ দাওয়াতে জটিল-কুটিল আত্মীয়দের সামলানোর নানা উপায়

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১১:০৬

ঈদ দাওয়াতে জটিল-কুটিল আত্মীয়দের সামলানোর নানা উপায়

ঈদে সবার সাথে মিলে আনন্দ করা, সুস্বাদু খাবার খাওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী। তবে এসব আয়োজনে একটা বিষয় অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে। আর তা হলো পরিবারের জটিল-কুটিল আত্মীয়স্বজন। সত্যি বলতে, ঈদে পারিবারিক জমায়েত কখনো কখনো যেন বিপত্তির এক ধাঁধায় পরিণত হয়। কে কী করবে, কাকে কীভাবে সামলাবেন এসব নিয়ে সত্যিই মাথা ঘামাতে হয়। 

ঈদকে সহজ ও উপভোগ্য করতে কৌশলগতভাবে এই “পারিবারিক কূটনীতির গাইড’’ অনুসরণ করতে পারেন। 

নিজেকে মনে করিয়ে দিন: আপনি অন্য কারো আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। ফলে শুধু নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নিচের গাইড ফলো করতে পারেন। যেমন: 

১. কয়েকবার গভীরভাবে শ্বাস নিন

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে, শুধু ঈদের কারণে আপনার আত্মীয়দের আচরণের রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। যারা আগে থেকে জটিল, তারা ঈদের দিনও তেমনই থাকবেন। তাই যদি তাদের থেকে অলৌকিক পরিবর্তনের আশা করেন, তাহলে কেবল হতাশ হবেন। অন্যদের পরিবর্তন নয়, বরং নিজের মানসিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিন।

তাই ঈদের পরিকল্পনা করার আগে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। এতে মানসিক চাপ কমবে এবং পরিস্থিতি সামলাতে সহজ হবে।

২. হাসুন ও মাথা নেড়ে সায় দিন

আপনার সেই আত্মীয়কে মনে করুন, যিনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত সব বিষয়ে “উপদেশ” দেওয়া তার দায়িত্ব বলে মনে করেন। এ ধরনের মুহূর্তের জন্য আপনার সেরা অস্ত্র হলো: “ভদ্র হাসি ও নীরব সম্মতি”।

কৌশলটি:

তার কথার সাথে তাল মিলিয়ে মাথা নাড়ুন।

মাঝে মাঝে বলুন: “আচ্ছা, বুঝলাম!” বা “বাহ, দারুণ ভাবনা!”

তবে অযথা যুক্তিতর্কে যাবেন না, এতে শুধু ঈদের আনন্দ মাটি হবে।

এই কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে আপনি সহজেই সব আলোচনা পার হয়ে যাবেন!

৩. কৌশলগতভাবে কথোপকথন পরিচালনা করুন

আপনার কাজ হলো আলোচনা সঠিক পথে রাখা। যদি কেউ বিতর্ক শুরু করতে চায়, তবে দ্রুত কৌশলী উত্তর দিন—

“চলুন, মিষ্টি নষ্ট না করি! বরং একটা মজার গল্প শুনবেন?”

“এই ঈদে কে কে নতুন রান্না ট্রাই করেছে?”

এমন নিরীহ, ইতিবাচক গল্পগুলো পরিবেশকে হালকা করে তুলবে এবং বিবাদের আশঙ্কা কমাবে।

৪. সঠিক জায়গায় বসুন

আপনার বসার জায়গা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! যদি সম্ভব হয়,

এমন জায়গায় বসুন যেখানে আপনার প্রিয় আত্মীয়রা আছেন এবং বিতর্কপ্রবণদের থেকে একটু দূরে থাকতে পারেন।

এতে আপনি ইতিবাচক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন এবং অপ্রিয় আলাপ এড়িয়ে যেতে পারবেন।

এটি আত্মীয়দের এড়ানোর জন্য নয়, বরং বুদ্ধিমানের মতো কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য।

৫. আপনার মিত্র খুঁজুন

সম্ভাবনা আছে, আপনি একা নন! পরিবারে আরো কেউ নিশ্চয়ই একই রকম পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। তার সঙ্গে গোপন একটা দল তৈরি করুন, যাতে একে অপরকে সাহায্য করতে পারেন।

কেউ যদি অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, আপনার “দলীয় সঙ্গী” প্রসঙ্গ বদলে দিতে পারেন।

কেউ যদি বিরক্তির কারণ হয়, আপনার সঙ্গী এক্সট্রা মিষ্টি এনে দিতে পারেন!

শুধু মনে রাখবেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং ঈদ উপভোগ করাই আসল লক্ষ্য।

৬. মিষ্টির সাহায্য নিন

ঈদে মিষ্টি ছাড়া কল্পনা করা যায়? মোটেও না!

যখন পরিস্থিতি একটু কঠিন মনে হবে, তখন সবাইকে বাকলাভা, কুনাফা বা সেমাইয়ের দিকে মনোযোগ দিতে বলুন।

এতে সবাই খেতে ব্যস্ত থাকবে, তাই আপনাকে কম প্রশ্ন করা হবে!

আপনি নিজেও কিছুটা “ইন্টারোগেশন জোন” থেকে বিরতি পাবেন।

৭. প্রয়োজনে নিজেকে সরিয়ে নিন

কখনো কখনো এমন হবে যে কেউ এমন কিছু বলবে, যা আপনাকে কষ্ট দিতে পারে। তখন

কিছুক্ষণ চুপ করুন।

একটু গভীর শ্বাস নিন।

প্রয়োজনে একটু হাঁটতে যান বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন।

এতে আপনার মন শান্ত হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।

৮. নিজের প্রতি যত্নের অভ্যাস গড়ে তুলুন

ঈদের আগে থেকেই মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন:

যোগব্যায়াম করুন।

বই পড়ুন।

প্রিয় মুভি দেখুন।

যত বেশি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন, তত কম চাপ অনুভব করবেন।

৯. সবশেষে হাসুন!

কখনো কখনো হাসিই সবচেয়ে ভালো প্রতিরক্ষা।

খালার সেই “বিয়ে কবে করবে?” প্রশ্ন? → কমেডি গোল্ড!

চাচাতো ভাইয়ের “বিশ্ব রাজনীতির অদ্ভুত তত্ত্ব”? → বন্ধুদের জন্য ভবিষ্যতের গল্প!

পরিস্থিতিকে সহজভাবে নিন এবং ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন।

শেষ কথা:

ঈদ মানেই আনন্দ, তাই অপ্রিয় পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কৌশলী হন, শান্ত থাকুন এবং সময়টাকে উপভোগ করুন।

সূত্র: গালফ নিউজ

Logo