আফ্রিকার মুসলমানদের রমজান ও ঈদের বৈচিত্র্যময় উৎসব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:২০

ঘোড়সওয়ারি শোভাযাত্রা, চাঁদ দেখা উৎসব ও যানজটে কফির আয়োজন; আফ্রিকার মুসলমানরা এমনই নানা ঐতিহ্য-সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে পালন করে পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর।
প্রতি বছর মুসলিম বিশ্বে এমন একটি মাস আসে, যখন সময়ের ছন্দ যেন বদলে যায়— মাসটি হলো রমজান। দিনের ব্যস্ত রাস্তা শান্ত হয়ে যায়, আর রাতের আকাশ আলোকিত হয় প্রার্থনা, ইফতার ও উৎসবে।
বিশ্বব্যাপী রমজানের ঐতিহ্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিস্তার লাভ করেছে। আফ্রিকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও কম নয়—১০০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম। সপ্তম শতকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকায় ইসলামের প্রসার ঘটে। প্রায় ১,৪০০ বছর পর এটি উত্তর আফ্রিকা, চাদ, গাম্বিয়া, সেনেগাল, সোমালিয়া এবং সুদানে প্রধান ধর্ম। আফ্রিকাজুড়ে মুসলমানদের জন্য রমজান ও ঈদুল ফিতর শুধু ধর্মীয় রীতি নয়; এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবও।
নাইজেরিয়া: আধ্যাত্মিকতা ও ঘোড়সওয়ারি শোভাযাত্রা
নাইজেরিয়া আফ্রিকার সর্বাধিক জনবহুল দেশ, মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকেও সর্ববৃহৎ। দেশটির উত্তরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় প্রধানত হাউসা ও ফুলানি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করেন। রমজানে উত্তর নাইজেরিয়ার ব্যস্ত নগরীগুলো খানিকটা স্তিমিত হয়ে আসে। মানুষ রোদ থেকে বাঁচতে ও ধর্মীয় কাজে বেশি মনোযোগ দেয়।
ঈদুল ফিতরের সময় একটি বিশেষ উৎসব হয়— দরবার উৎসব। এটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন, যেখানে শত শত মানুষ ঈদের পোশাকে সজ্জিত হয়ে সমবেত হন। এ সময় ঘোড়সওয়ারি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যেখানে রাজা বা আমির নেতৃত্ব দেন।
সেনেগাল: আতিথেয়তার সংস্কৃতি
পশ্চিম আফ্রিকার ফ্রাঙ্কোফোন দেশ সেনেগালে ইসলাম শুধু ধর্ম নয়, জীবনযাত্রার অংশ। দেশটির প্রায় ৯৭ শতাংশ জনগণ মুসলমান। এখানে 'তেরাঙ্গা' নামে একটি বিশেষ সংস্কৃতি রয়েছে, যার অর্থ হলো উদারতা, আতিথেয়তা ও সহমর্মিতা। রমজানে এ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ আরো বেশি হয়ে ওঠে।
রমজানের সময় ‘নদগু’ নামে বিশেষ ইফতার আয়োজন করা হয়। তরুণরা একত্রে ইফতার প্রস্তুত করে তা পথচারী ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা: চাঁদ দেখা ও পথের ইফতার
আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলমানদের সংখ্যা খুব বেশি নয়— দেশটির মাত্র ২ শতাংশ মানুষ মুসলিম। তবে কেপটাউনে মুসলমানরা বেশ সক্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি বজায় রেখে চলেন। এখানে রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখার ঐতিহ্যগত প্রথার মাধ্যমে শুরু হয়। বিশেষ করে বোকাপ এলাকায় এটি একটি সামাজিক আয়োজন হিসেবে পালিত হয়।
রমজান মাসে কেপটাউনে বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবীরা দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে। ঈদুল ফিতরের দিন রাস্তায় একসাথে নামাজ পড়ার আয়োজন করা হয়।
আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে রমজান ও ঈদের সংস্কৃতি বিভিন্ন হলেও একটি বিষয় অভিন্ন— সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নেয়। দানশীলতা, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের অপূর্ব সংমিশ্রণে এই উৎসব আফ্রিকার মুসলমানদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা