
বিদেশে কর্মক্ষেত্রে কাজ শুরু করা ও কাজ চালিয়ে নেয়া অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং।
বিদেশে কর্মক্ষেত্রে কাজ শুরু করা ও কাজ চালিয়ে নেয়া অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং। একেক দেশের একেক কালচার। মানুষে মানুষে সেই পার্থক্য আরো বাড়ে। কোম্পানি ভেদে তা হয় ভিন্ন ভিন্ন। ফলে অনেক দিক বিবেচনা করে মানুষের সাথে মিশতে হয়, কাজ করতে হয়।
তবে মোটা দাগে কিছু নিয়ম প্রায় সব দেশে একই রকম। মেনে চললে আপনি হবেন সবার প্রিয়।ফলশ্রুতিতে কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে উঠে যেতে পারেন ওপরে। আর ব্যতিক্রম হলে ভোগান্তি হতে পারে। কাজ নাও পেতে পারেন। কাজ না পেলে, ইনকাম না এলে প্রবাসে জীবন হয়ে উঠতে পারে দুর্বিসহ।এদফায় আমরা চলুন জেনে নেই অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্রে কিছু লিখিত অলিখিত নিয়ম, যা মেনে চলতে হয়।
সময় মেনে চলুন: কোন দৈব দুর্বিপাক ছাড়া কাজে দেরি করে যাওয়া ভালো চোখে দেখা হয় না। সময় মতো কর্মক্ষেত্রে যাওয়া, সময় মতো কাজ শেষ করাকে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এটাকে পেশাদারিত্ব হিসেবেও ভাবা হয়।
কাজে ফাঁকি নয়: কর্মক্ষেত্রে আপনার আচরণ, নীতি, নৈতিকতা প্রখর দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করা হয়। আপনার মনে হতে পারে যে, কেউ হয়তো আপনাকে দেখছে না। আসলে সবাই আপনাকে প্রত্যক্ষ করছে। কাজে ফাঁকি দিলে ভবিষতে কাজের চুক্তি বৃদ্ধি কিংবা মজুরিতে প্রভাব পড়তে পারে।
কাউকে অসম্মান না করা, সৎ ও নিষ্ঠাবান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখা দরকার যে বিদেশ হলো নারী, শিশু, বৃদ্ধের সুরক্ষার দেশ। কাউকে বুলি করা বা কাউকে হ্যারাস করা আইনদ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। যৌন হয়রানী করাকে মারাত্নক অপরাধ হিসেবেও গণ্য করা হয়। অভিযোগ এলে যে কাউকে আইনের মুখোমুখি হতে হয়।
ছোটদেরও সম্মান করতে জানা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে যিনি আপনার বস হবেন, তিনি বয়সে ছোটও হতে পারেন। তার অর্ডার মেনে চলার মানসিকতা তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমাগত কোন বিষয়ে অভিযোগ করাকেও ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সমস্যার বিপরীতে সমাধান উদ্ভাবন পেশাদারিত্ব হিসেবে মনে করা হয়।
অনেক কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেয়া, আলোচনা করা আইনদ্বারা নিষিদ্ধ করা থাকে। কাজ শুরুর সময়ই এটি জেনে নেয়া দরকার। কাজের সময় ফোনে কথা বলা ভালো চোখে দেখা হয় না। কাজের সময়ের বাইরে বা সন্ধ্যা রাতে, যখন কেউ পরিবারের সাথে সময় কাটায় তখন কোন সহকর্মীকে ফোন করাটাকেও বিরক্তিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে টেক্সট করাকে অনেক সময় সাদরে গ্রহণ করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় কর্মক্ষেত্রে অলিখিত নিয়ম:
অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের বাইরে অলিখিত নিয়ম থাকে। যা বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কাজের ফাঁকে সামান্য সময়ে সবার সাথে মিলিত হওয়া বা চা কফি খাওয়া। অনেক সময় মনে হতে পারে এটা অপ্রয়োজনীয় কিন্তু সহকর্মীদের সাথে মিলিত না হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া ডেস্কে কাজের সময় কেমন গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়া হলে তাতেও যে কারো অভিযোগের মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ইমেইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষা সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। তা না হলে প্রাপক ভাষা নাও বুঝতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ প্রদর্শন করাও অনুচিত।
কাজ শুরুর সময়টায় ‘গুড মর্নিং’ বলা বা বিদায় বেলায় ‘হ্যাভ এ গুড ওয়ান’ বলাটা ভদ্রতা বলে বিবেচনা করা হয়। হ্যান্ড শেক করা, বুঝলে মাথা নাড়ানোটাও ভালো বলে মনে করা হয়।
অন্যের প্রতি বিশেষত সহকর্মীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, সহকর্মী সংকটে পড়লে তাকে সাহায্য করা, টীম স্পিরিট উচ্চতর করাকে পেশাদারিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট:
(এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যম এসবিএস বাংলা ও লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে)