
দেশ থেকে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ যান মধ্যপ্রাচ্যের নানান দেশে। এমনও অনেক ঘটনা আছে যে ঢাকা মহানগরী দেখা বা থাকার সুযোগ হয় নি কারো জীবনে কিন্তু তারা চলে গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের কাতার কিংবা কুয়েতে।
অনেকে জানেন না সেই দেশের আইন-কানুন-নিয়ম-নীতি। ফলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। দুর্যোগ নেমে আসে প্রবাসীদের জীবনে। সাম্প্রতিক সময়ের একটি উদাহরণ এখানে দেয়া যায়।
গেল জুলাই অগাষ্টে দেশে হয়ে গেলো গণঅভ্যুত্থান। স্বাভাবিকভাবে সেই অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার আবেগে উদ্বেলে শরিক হয়েছিলেন কোটি প্রবাসীরা। তেমনটি করতে গিয়ে সংযুক্ত আবর আমিরাতে বিপত্তিতে পড়তে হয়েছিলো ৫৭জন প্রবাসী শ্রমিকদের।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোন প্রকার বিক্ষোভ করা নিষিদ্ধ। এমন বিক্ষোভ দেখানোকে মারাত্নক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যার জের ধরে কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো সেই সব শ্রমিকদের। বিভিন্ন মেয়াদে তাদের জেল জরিমানা করে আমিরাতের আদালত।
শেষমেশ দেশের অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে দেশটির আমীরের কাছে তদ্বির করতে হয়। জেল খাটা, তকলি কাটা সেই সব শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো হয় দেশে। ফেরত আসা শ্রমিকরা আর সেই দেশটিকে ফেরত যেতে পারবেন বলে মনে হয় না। তাছাড়া অন্য দেশে যাবার চেষ্টা করলেও, ইমিগ্রেশনে বিক্ষোভ করা, আইন না মানার তথ্যে থাকার কারণে, পৃথিবীর অন্য কোন দেশের ভিসা পাবার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে এসব শ্রমিকদের।
এই বিক্ষোভের জের ধরে আমিরাতে বাংলাদেশীদের ভিসা সাময়িক বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার। আমিরাতে বিভিন্ন শহরে বাস করেন প্রায় ২০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী। প্রতিবছর ১লাখ লোক নিয়মিত যাতায়াত করেন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই দেশটিতে। আইন না জানা, না মানা মাত্র ৫৭ শ্রমিকের বোকামির দন্ড এখন ভোগ করতে হবে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের।
ফলে যে দেশে যাবেন সেই দেশের আইন জানা ও কঠোরভাবে তা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে দেশে থাকছেন, সেই দেশের আইন না মানলে দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে আপনাকে। যা দিন শেষে দেশের বদনাম হবে। নিজের জীবনের সম্ভাবনার স্বপ্নও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
চলুন জেনে নেই আরব আমিরাতের সাধারণ কিছু আইন, নিয়ম কানুনঃ
১। আপনি যেই হোন না কেন, দেশটিতে কোন প্রকার বিক্ষোভ, সমাবেশ, জমায়েত নিষিদ্ধ। যে কোন ধরনের প্রতিবাদ, সমাবেশ জমায়েতের শাস্তি মারাত্নক।
২। দেশটির রাজকীয় পরিবার, পরিবারের কোন সদস্য, সরকার, প্রশাসন,কোন বাহিনীকে নিয় কোন সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। করলে তার শাস্তি মারাত্নক।
৩। কাপড়ে শালিনতা বজায় রাখা, এমন কোন পোশাক না পড়া যাতে কেউ বিব্রত হন।
৪। ছেলের পোশাক মেয়ে আর মেয়েদের পোশাক ছেলেরা পড়লেই আটক হতে পারেন যে কেউ।
৫। অপরিচিত কারো সাথে হ্যান্ডশেক করতে না যাওয়া ভালো। তবে কেউ যদি আগে হাত বাড়ায় তবেই হ্যান্ডশেক করুন।
৬। অশালিন ভাষা থাকা টিশার্ট বা পোলো শার্ট পড়লে বিপদ আছে।
৭। পাবলিক ডিসপ্লে অব এফেকশন বা প্রকাশ্যে ভালোবাসা দেখানো থেকে বিরত থাকুন।
এসব সাধারণ নিয়মের বাইরেও কর্মক্ষেত্রে নানান নিয়ম আর অধিকারের বিষয় শ্রমিকদের স্থানীয় ভাবে জানতে হবে। বিশেষত বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ বাংলাদেশীদের সান্নিধ্যে থেকে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া উত্তম।