
২০২৪ সালে মাত্র ৬টি দেশে গেছেন বাংলাদেশের অভিবাসীদের ৯০ শতাংশ।
বাংলাদেশিদের জন্য দেশের বাইরে শ্রমবাজার আশঙ্কাজনকভাবে ছোট হয়ে আসছে। শুধু গত বছরই শ্রমবাজারের সংখ্যা ১০ থেকে নেমেছে ৬টিতে। এ বছর বন্ধের আশঙ্কায় আরও কয়েকটি বাজার।
এই দুরবস্থার জন্য সুর্নিদিষ্ট গবেষণার অভাবকে দুষছেন অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা। সেই সাথে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকা এবং অভিবাসন কূটনীতিতে দক্ষতা না থাকাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুখবর নেই অভিবাসন খাতে। ৫ বছরে ৯৫ ভাগ অভিবাসী গেছেন ১০টি দেশে। আর ২০২৪ সালে মাত্র ৬টি দেশে গেছেন বাংলাদেশের অভিবাসীদের ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ কমেছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের গন্তব্য দেশের সংখ্যা। কমেছে নারী অভিবাসনও। গত বছর বিদেশে গেছেন ৫৪ হাজার নারী কর্মী। রামরুর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব চিত্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন বাজার খুললেই চাহিদার বিষয়ে খোঁজ না নিয়ে, সেখানে লোক পাঠানোর প্রবনতা বন্ধ করা উচিত। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘তাইওয়ানে আমাদের মার্কেট আছে, হংকংয়ে আমাদের মার্কেট আছে, ইউরোপেও মার্কেট আছে কেয়ার গিভার এন্ড নার্সিংয়ের। আমরা কি এটা তৈরি করতে পারব? এই মুহুর্তে কি আমাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ভকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো আন্তর্জাতিকভাবে আপটুডেট? এই মার্কেটকে রিচ করছে কারা? ভারতীয়রা। ফিলিপিনোরা। এখানে তাদের বিশাল বিনিয়োগ আছে।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারী উদ্যোগের ফলেই, দেশের বাইরে কোনরকমে টিকে আছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। তবে এক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নানা অনিয়ম বাড়াচ্ছে ভোগান্তি।
অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘আমরা যদি সরকারিভাবে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে, যেখানের বিভিন্ন দেশে আমাদের অভিবাসীদের অধিকাংশ যায়, আমরা যদিন তাদের সাথে সমঝোতা স্মারকের বদলে আস্তে আস্তে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির দিকে না আসি তাহলে এটা আরও সংকুচিত হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আওতায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, অভিবাসন কূটনীতির বিষয়ে। আর বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে প্রশিক্ষণগুলো হয় এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমি, সেখানে যদি এটা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।’
উন্নত দেশগুলোর বদলে যেসব দেশে বাংলাদেশী কর্মী আছে সেখানে দূতাবাসে লেবার এবং প্রেস কর্মর্কতা নিয়োগে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি