
বিকল্প নতুন কোনো পদ্ধতি চালু না হওয়া পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা নামে আলাদা স্কিমের মাধ্যমে চালু আছে এ প্রকল্প। তবে প্রবাসীদের মাঝে প্রকল্পটি তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। চালু হওয়ার পর থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে হাজারের ঘরেও পৌঁছেনি ‘প্রবাস স্কিম’। প্রবাসীরা বলছেন, যথাযথ প্রচার ও আস্থার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ স্কিম।
এক
যুগ ধরে দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করেন নোয়াখালীর নিজাম উদ্দিন। মাসে বেতন পান
প্রায় ১৫০০ দিরহাম। দীর্ঘসময় প্রবাসে থাকলেও তাঁর সঞ্চয়ের খাতা শূন্য। সরকার ঘোষিত
জাতীয় পেনশন স্কিম সম্পর্কে জানেন না তিনি। জানা গেল, তাঁর মতো অসংখ্য প্রবাসী এখনও
পেনশন স্কিমের সঠিক তথ্য পাননি।
দুবাই
প্রবাসী কুমিল্লার মোবারক হোসেনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টুকটাক চোখে পড়লেও
বৃহৎ পরিসরে পেনশন স্কিমের প্রচার নেই প্রবাসে। কীভাবে এটি চালু করতে হয়, কোথায় টাকা
পরিশোধ করতে হয়– সবই অজানা।
জাতীয়
পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাস স্কিমে নিবন্ধন করেছেন ৯৪৩
জন প্রবাসী। এর মধ্যে নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করছেন ৩২১ জন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে
প্রবাস স্কিমে নিবন্ধনের সংখ্যা ৩০১টি। ১০১ জন নিবন্ধনকারী নিয়ে এ তালিকায় এগিয়ে আছে
সংযুক্ত আরব আমিরাত। ৮৩ জন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব। আগে প্রবাসীদের এনআইডির
প্রয়োজন হলেও এখন পাসপোর্টের তথ্য দিয়েও নিবন্ধন করা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রবাস স্কিমে
চাঁদার হার ২ হাজার, ৫ হাজার, ৭ হাজার ৫০০ ও ১০ হাজার টাকা। প্রবাসে বসবাসরত ১৮ থেকে
৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। তবে বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চাশোর্ধ্ব
নাগরিকরাও ১০ বছর নিরবচ্ছিন্ন জমা দিতে পারলে পেনশন সুবিধা পাবেন।
জাতীয়
তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী যে কোনো
বাংলাদেশি নাগরিক নির্ধারিত হারে চাঁদা দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। প্রবাস থেকে
দেশে প্রত্যাবর্তনের পর সমপরিমাণ অর্থ দেশীয় মুদ্রায় পরিশোধ করাসহ প্রয়োজনে স্কিম
পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে।
দুবাই
প্রবাসী ব্যবসায়ী এ কে আজাদ বলেন, প্রবাসীদের জন্য দেশে দেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে
স্কিমের ব্যাপারে প্রচার চালানো উচিত। তাতে প্রবাসীদের আগ্রহ তৈরি হবে।
এ
বিষয়ে মতামত জানতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও ব্যস্ততার অজুহাতে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের
সদস্য (ফান্ড ম্যানেজমেন্ট) গোলাম মোস্তফা তথ্য ও মতামত জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
তবে এক কর্মকর্তা জানান, মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় সফলতা
আসেনি। তবে এবার পরিকল্পনা আছে, যারা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশে যাবেন,
পেনশন স্কিম সম্পর্কে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হবে, যাতে তারা একটি অ্যাকাউন্ট খুলে যেতে
পারেন।
তথ্যসূত্র:
দৈনিক সমকাল – ০৪.০২.২০২৫