
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরশীলতা একটি সাধারণ প্রবণতা। তবে এই পদ্ধতি অনেক সময় প্রতারণা ও হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিচে এই প্রবণতার কারণগুলো হলো:
১.
তথ্যের অভাব ও সচেতনতার ঘাটতি
গ্রামের
অনেক মানুষ বৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন। সরকারি ওয়েবসাইট
বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার দক্ষতা না থাকায় তারা দালালদের ওপর নির্ভর করেন।
এতে করে তারা সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পড়েন।
২.
দালালদের স্থানীয় প্রভাব ও বিশ্বাসযোগ্যতা
স্থানীয়
দালালরা সাধারণত পরিচিত মুখ এবং তাদেরকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়। তারা আত্মীয়স্বজন বা
পরিচিতদের মাধ্যমে গ্রামবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়।
ফলে অনেকেই তাদের কথায় বিশ্বাস করে বিদেশে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক হন।
৩.
সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ
বৈধ
উপায়ে বিদেশ যেতে সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা অনেক সময়সাপেক্ষ
এবং জটিল প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও বিভিন্ন কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতার কারণে
অনেকে দ্রুত বিদেশ যাওয়ার আশায় দালালদের শরণাপন্ন হন।
৪.
আর্থিক চাপ ও দ্রুত উপার্জনের প্রয়োজন
গ্রামীণ
অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে ভুগছে এবং দ্রুত উপার্জনের আশায় থাকে। দালালরা সহজ শর্তে
অর্থের বিনিময়ে ভিসা বা কাজের নিশ্চয়তা দেয়, যা তাদেরকে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু বাস্তবে
অনেকেই প্রতারণার শিকার হন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
৫.
প্রতারণার উচ্চ হার
একটি
সমীক্ষায় দেখা গেছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ৫১% কোনো না কোনোভাবে প্রতারণা ও হয়রানির
শিকার হন। এর মধ্যে ১৯% মানুষ টাকা দেওয়ার পরও বিদেশে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন, আর বাকি
৩২% বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারিত পরিবারগুলো গড়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার
টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
সমাধান
ও সুপারিশ
সচেতনতা
বৃদ্ধি: গ্রাম পর্যায়ে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রচার করা।
অনলাইন
রিক্রুটমেন্ট প্রসার: সরকারি ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে সরাসরি বিদেশ
যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
দালালদের
বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: অবৈধ রিক্রুটার ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ
করা।
নির্ভরযোগ্য
রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বৃদ্ধি: সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম
আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা।
সঠিক
তথ্য ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে দালালদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈধ উপায়ে বিদেশে
কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী প্রতারণা ও হয়রানি
থেকে রক্ষা পাবে এবং নিরাপদে বিদেশে কাজ করতে সক্ষম হবে।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট