ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৫১

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নির্দিষ্ট কোনো সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর
আগে, ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত অষ্টম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের (ইন্ডিয়ান ওশান
কনফারেন্স) ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেখানে
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্ক ও চ্যালেঞ্জ
পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, ভারত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সম্পর্কের একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর সঙ্গে
অভ্যস্ত ছিল, যা হঠাৎ ভেঙে যায়। নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে,
তবে ছয় মাসের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের
মধ্যে অর্থনৈতিক ও বেসরকারি খাতে সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক হচ্ছে। বাণিজ্যে সাময়িক
মন্দা দেখা দিলেও তা আবার চাঙা হয়েছে, যা প্রমাণ করে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের
আগ্রহ রয়েছে।
সংখ্যালঘুদের
নিরাপত্তা ও ভারতীয় মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন,
বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলমানদের মতোই সমান নাগরিক অধিকার
ভোগ করে। তবে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ভারতীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
চালানো হয়েছে, যা মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত।
শেখ
হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য
ভারতকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত যদি তাকে ফেরত
না পাঠায়, তবে অন্তত এমন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে যাতে তিনি মিথ্যা ও উত্তেজনামূলক
বক্তব্য না দেন।
সীমান্ত
হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য
ভারতীয়
বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যার বিষয়ে তিনি
বলেন, ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত সীমান্তে ২৪ জন নিহত হয়েছেন, যার অর্ধেকই আগের সরকারের
আমলে। তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো সীমান্তেই এভাবে মানুষকে হত্যা করা হয় না। অপরাধ হলে
গ্রেপ্তার করে আদালতে বিচার করা উচিত, হত্যা নয়।
আদানির
বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্বিবেচনা
আদানি
গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তির মূল্য পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বিশ্ববাজারের তুলনায় বেশি হওয়ায় এটি যৌক্তিক করার
জন্য আদানি গ্রুপের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
সামুদ্রিক
সীমানা ও জেলে আটক প্রসঙ্গ
ভারত
ও বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা নিয়ে চুক্তি করলেও এখনো উভয় দেশের জেলেদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জেলেরা মাছের দল অনুসরণ করতে গিয়ে ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করে। তবে উভয়
দেশ নির্দিষ্ট সময় পর পরস্পরের জেলেদের মুক্তি দিয়ে থাকে।
বিমসটেক
সম্মেলনে মোদি-ইউনূস বৈঠকের সম্ভাবনা
আগামী
এপ্রিলে থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক হতে পারে। পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, দুই নেতা একসঙ্গে বসলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অনেক বিষয় সহজেই সমাধান
হতে পারে।
ভারত-বাংলাদেশ
সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরবে?
পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, সম্পর্ক নির্দিষ্ট কোনো সরকার বা দলের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, বিএনপির আমলেও বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি আশাবাদী,
পরস্পরের স্বার্থ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট