২০২৫ সালে অভিবাসনের যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৪৯

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য লাখো বাংলাদেশি অভিবাসী হচ্ছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসনের চিত্র কেমন হতে পারে, কী কী সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ রয়েছে—তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি অভিবাসনের সম্ভাবনা
১. মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শ্রমবাজারের উন্মুক্তি
বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখনো প্রধানত সৌদি আরব, কাতার,
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ওমানে কেন্দ্রীভূত। তবে নতুন করে সৌদি আরব ও কাতারে
উচ্চ বেতনের টেকনিক্যাল পেশাজীবীদের জন্য চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
২. দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধি
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতে দক্ষ কর্মীর
চাহিদা বাড়ছে। আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো খাতে
বাংলাদেশি কর্মীরা বিশেষ সুযোগ পেতে পারেন।
৩. ইউরোপ ও কানাডায় অভিবাসনের সুযোগ
কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোগ্রাম এবং ইউরোপের
বিভিন্ন দেশে দক্ষ শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলছে।
৪. রেমিট্যান্স প্রবাহ ও অর্থনৈতিক অবদান
বাংলাদেশি অভিবাসীরা প্রতিবছর প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন
ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ২০২৫ সালের
মধ্যে এই প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ:
১. অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার
অনিয়মিত বা অবৈধ অভিবাসন এখনো একটি বড় সমস্যা। লিবিয়া,
মালয়েশিয়া ও ইউরোপের পথে মানবপাচারের শিকার হচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি।
২. শ্রমিক নির্যাতন ও কর্মসংস্থান ঝুঁকি
বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল,
যার ফলে বেতন কম পাওয়া, নির্যাতন, চুক্তিভঙ্গ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
৩. দক্ষতার অভাব ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা
বহু বাংলাদেশি কর্মী দক্ষতার অভাবে কম বেতনের কাজে
যুক্ত হচ্ছেন। এছাড়া, ভাষাগত দক্ষতা কম থাকায় ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে প্রতিযোগিতা
করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৪. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও চাকরির সংকট
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও মন্দা পরিস্থিতি
অনেক দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে, যা বাংলাদেশি অভিবাসনের জন্যও চ্যালেঞ্জ
হয়ে উঠতে পারে।
সমাধানের উপায়:
দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ: সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর
উচিত কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান: সরকার ও প্রবাসীকল্যাণ
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশে নতুন শ্রমবাজার
অনুসন্ধান করা।
আইনি সুরক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষা: বিদেশে কর্মীদের
সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও আইনি সহায়তা বৃদ্ধি করা জরুরি।
২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ
উভয়ই থাকবে। দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং অভিবাসন নীতি শক্তিশালী করলে
বাংলাদেশের অভিবাসন প্রবাহ আরও ইতিবাচক হয়ে উঠবে।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট