বিশ্বময় বাংলা
প্রবাসীদের ভূমিকা যেখানে অবিচ্ছেদ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:২৩

জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলা নামের নতুন এক দেশের অংকুর জেগেছিলো বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারীতে। মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ দেয়া বাঙালি কেবল রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠাই করেনি, যেখানেই তারা গেছেন, পৃথিবীময় বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে গেছেন নিরন্তর। বাংলা ভাষা পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ার সাথে প্রবাসীদের রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।
তাই তো লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক, মেট্রো স্টেশন, পথে প্রান্তরে দেখা মেলে বাঙলা বর্ণমালার। পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটস্, ব্রিকলেইন, হোয়াইটচ্যাপেলে চলতি পথে দেখা মিলবে বাংলা আর বাংলা বুলির।
আবার ধরুন না আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন। সেখানে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত দেশের সৈনিকদের কারণে আফ্রিকার এই দেশটির দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি মিলেছে। দেশটির মানুষের মুখে বাংলা ভাষা শুনে গর্বে মনে ভরে।
মার্কিন মুল্লুকের নিউইর্য়ক নগরীতে বাস করেন বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ। ইংরেজি ভাষার দেশ হলেও, বাংলাকে ভোলেননি মার্কিন প্রবাসীরা। দেশটির সরকারও স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলা ভাষাকে। তাই তো ভোটের ব্যালটেও স্থান পেয়েছে বাংলা।
মরুর বুকে সৌদি আরবের জেদ্দা, কিংবা আমিরাতের দুবাই শারজাহ্ বাঙালির মুধর ভাষাকেও আপনই মনে করেন মরুর বেদুইন কিংবা ধনী শেখেরা।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের পথে ঘাটে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির মুখের ভাষা ভিনদেশীদের আর অচেনা নয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনী, মেলবোর্নেও একুশের আয়োজনে বাঙালির অংশগ্রহণ বিদেশীদের মুগ্ধ করে।
একুশের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে, নতুন প্রজন্মকে বাংলা শেখাতে বাঙালিরা প্রবাসে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এসব স্কুলে শিশুদের বাংলা ভাষা শেখানো হয়। তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের সাথে।
অনেক প্রবাসী লেখক বাংলা ভাষায় কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ লিখে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছেন। তাদের লেখা বই প্রকাশিত হচ্ছে দেশে এবং বিদেশে।বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাঙালিরা নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। এসব অনুষ্ঠানে বাংলা গান, নাটক, আবৃত্তি এবং নৃত্য পরিবেশিত হয়।
প্রবাসী বাঙালিরা তাদের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলা ভাষার পরিচিতি বাড়িয়ে চলেছেন।
প্রবাসীদের উদ্যোগে অনলাইনে বিভিন্ন বাংলা টিভি চ্যানেল, রেডিও স্টেশন এবং ইউটিউব চ্যানেল পরিচালিত হচ্ছে। এসব মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার-প্রসার ঘটছে। এমনি করে বাংলা ভাষার প্রসার আর উন্নতিতে নিরন্তর কাজ চলছে প্রবাসেও।
আর ১৯৯৯ সালে, ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতির পর, একুশ এখন আর বাঙালির একার নয়। সারা বিশ্বের অনুপম এক ঐতিহ্যের অংশ।
১৯৯৯ সালে, ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতির পর, একুশ আর বাঙালির একার নয়। সারা বিশ্বের অনুপম এক ঐতিহ্যের অংশ।