কেন শ্রমিকরা দেশে ফেরে, কত শ্রমিক দেশে ফেরে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৫০

বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ফেরত আসার পেছনে বিভিন্ন কারণ ও বাস্তবতা রয়েছে। প্রথমত, বেশিরভাগ অভিবাসী স্বল্পমেয়াদী চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে বিদেশে যান; চুক্তি শেষে তাদের দেশে ফিরে আসতে হয়।
তবে দেশে ফিরে আসার পর তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের
সুযোগ সীমিত, যা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
অভিবাসন খাতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অব্যবস্থাপনা
কর্মীদের বিদেশে কাজের সময় এবং দেশে ফেরার পরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উচ্চ অভিবাসন
ব্যয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কর্মীদের আর্থিক ও মানসিক চাপে ফেলে।
বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের দেশে ফেরত আসার পরিসংখ্যান
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন:
২০১৯ সাল: রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ
ইউনিট (রামরু) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ১৮,০০০ বাংলাদেশি শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন,
যার মধ্যে ১,০০০ এরও বেশি নারী শ্রমিক ছিলেন।
২০২০ সালের পর: রামরু পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে,
২০২০ সালের পর বিদেশে গিয়ে ফিরে আসা ২১৮ কর্মীর মধ্যে ৩৫% কাজ না পেয়ে দেশে ফিরেছেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন: এই সময়ের মধ্যে
৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সৌদি
আরবে কর্মসংস্থান পেয়েছেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন: এই ছয় মাসে ৫ লাখেরও
বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে ১৩,০০০ জন একাউন্টেন্ট হিসেবে কর্মরত।
দেশে ফেরত আসা কর্মীদের মধ্যে সর্বাধিক ৩৮.৩৭% সৌদি
আরব থেকে এবং ১৪% সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছেন।
এছাড়া, মালয়েশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাবাসন কর্মসূচির
মাধ্যমে ৩১,০০০ এরও বেশি বাংলাদেশি দেশে ফিরতে নিবন্ধন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ৩,৬৫৮ প্রবাসী শ্রমিকের লাশ
দেশে ফিরেছে, যা প্রতিদিন গড়ে ১০ জনেরও বেশি।
সঠিক ও হালনাগাদ পরিসংখ্যানের অভাবে দেশে ফেরত আসা
কর্মীদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা চ্যালেঞ্জিং। তবে, উপরোক্ত তথ্যসমূহ থেকে ধারণা
পাওয়া যায় যে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দেশে ফিরে আসছেন।
দেশে ফিরে আসা কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে
পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এছাড়া, অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা
ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়
ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেতে
পারে।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট