
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আগে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি না থাকলে প্রবাসে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিচে বিদেশ যাবার আগে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
১.
বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা সংগ্রহ: প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে
এবং গন্তব্য দেশের জন্য সঠিক ভিসা আছে। পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
২.
চুক্তিপত্র যাচাই: নিয়োগকর্তার সাথে করা চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ে নিশ্চিত হবেন যে
সেখানে বেতন, কাজের সময়, বাসস্থান, খাবার এবং অন্যান্য সুবিধার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে
উল্লেখ রয়েছে।
৩. প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ: বিদেশে কাজের পরিবেশ,
সংস্কৃতি, আইন এবং ভাষা সম্পর্কে ধারণা পেতে প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা উচিত।
এটি আপনাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ
কেন্দ্রগুলো টিটিসি এ ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
৪.
মেডিকেল পরীক্ষা: বিদেশে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে মেডিকেল সনদ সংগ্রহ
করুন। অনেক দেশেই নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য মানদণ্ড পূরণ করা আবশ্যক।
৫.
জরুরি কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা: পাসপোর্ট, ভিসা, চুক্তিপত্র, মেডিকেল সনদ, বিমানের টিকিট
এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের মূলকপি ও ফটোকপি সাথে রাখুন।
৬.
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন: বিদেশে যাওয়ার আগে প্রবাসী
কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করুন। এটি প্রয়োজনে সরকারী সহায়তা
পেতে সহায়তা করবে।
৭.
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা: দেশে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠানোর জন্য নিজ নামে বৈধ ব্যাংক
অ্যাকাউন্ট খুলুন। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
৮.
প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ: নতুন দেশের আবহাওয়া ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয়
পোশাক, ওষুধ এবং অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করুন।
৯.
জরুরি যোগাযোগ তথ্য সংগ্রহ: গন্তব্য দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নম্বর,
স্থানীয় হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশন এবং নিয়োগকর্তার যোগাযোগ তথ্য সংগ্রহ করুন।
১০.
মানসিক প্রস্তুতি: নতুন পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং কাজের ধরণ সম্পর্কে মানসিকভাবে প্রস্তুত
থাকুন। এটি আপনাকে প্রবাস জীবনে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সঠিক
প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রবাসে কর্মজীবনকে সফল ও নিরাপদ করা সম্ভব। প্রতারণা এড়াতে
এবং বৈধ উপায়ে বিদেশ গমনের জন্য সরকারী নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা উচিত।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট