
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিদেশে নারী কর্মী পাঠানোর ঢেউ লাগে। সেই বছর থেকে সৌদি, আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডানে যেতে শুরু করে লাখো নারী শ্রমিক। এরমধ্যে, ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশী, এক সৌদি আরবেই গিয়েছিলেন ৮৩হাজার ৩৫৪জন নারী কর্মী।কোভিড মহামারির পর, নারী কর্মীদের বিদেশে যাওয়া খানিকটা কমলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবার তা বেড়েছে। ২০২৪ সালে ৫৪ হাজার ৬৯৬জন নারী কর্মী গেছেন পৃথিবীর ২০টি দেশে, নানান কাজের আশায়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান মনে করেন, যে সব নারী দেশের বাইরে গিয়েছেন বেশীর ভাগই গেছেন গৃহকর্মী হিসেবে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সেখানে নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আছে।এ সব কারণে গত কয়েক বছরে ধরে ধারাবাহিকভাবে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছিল। এই প্রবণতাকে অস্বাভাবিক মনে করেন না তিনি।শরিফুল হাসান মনে করেন, যেসব নারী শ্রমিকরা প্রবাসে যান, তারা তাদের আর্থিক বা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা থেকেই যাচ্ছেন বিদেশে।
বাংলাদেশের নারী কর্মীদের শ্রমবাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর।যাদের অধিকাংশ যান গৃহকর্মী বা খাদ্দামা এবং গার্মেন্টসের শ্রমিক হিসেবে। গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকদের বেশির ভাগের গন্তব্য জর্ডানে।২০২৪ সালে জর্ডানের নানান গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে, কর্মসংস্থান হয়েছে ১২ হাজার ৪৪৫জনের।
বিপুল পরিমাণ নারী শ্রমিকরা কাজ নিয়ে বিদেশ গেলেও অনেকেই অপরিচিত পরিবেশে পড়েন মানসিক ও শারিরীক নির্যাতনের মুখে। গৃহকর্মী হিসেবে যেসব নারী শ্রমিকরা সৌদি আরবে যান তাদের অনেকে পড়েন বিরূপ পরিবেশে।
সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি, আবুল বশির মাইগ্রেশন কনসার্নকে জানান, নারীরা সৌদিতে এসে ভিন্ন বাস্তবতার মুখে পড়েন। সৌদিতে ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা, নতুন পরিবেশ আর খাদ্যাভাসের সাথে অভ্যস্ত হতে না পারার কারণে, নানান সমস্যার মুখে পড়েন।
এর বাইরে বেতন কম বা না পাওয়া, পছন্দের কাজ না পাওয়া, বাড়িতে সন্তান বা পরিজনের কথা চিন্তা করে অনেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু দেশে ফিরে আসলে আর্থিক ক্ষতির ভয় আর কাজ পরিবর্তন করা বেশ ঝামেলার বলে, মুখবুজে কাজ করে যেতে হয় তাদের।
তাদের অনেকে নির্যাতনের মুখে পড়ে ফিরতে হয় লাশ হয়ে। মৃত্যুর পর পরিবার জানতেই পারে না কী কারণে প্রিয়জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবার পায় না ক্ষতিপূরণের টাকাও। যারা সুস্থ হয়ে ফেরেন দেশে, তাদের অনেকে ভোগেন মানসিক সমস্যায়।
তবে, নানামুখী নেতিবাচক ঘটনার পরও, বাংলাদেশের নারী কর্মীদের কাজের সুনাম আছে বিশ্বের নানান দেশে।বিপুল পরিমাণ নারী কর্মীদের বিদেশ যাওয়া তারই প্রমাণ দেয়। এই খাতের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ আর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নারীকর্মীদের বিদেশ পাঠানো গেলে, তারা ভালো বেতন কাজ পেতে পারেন। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তারাও সমৃদ্ধ করছেন দেশের অর্থনীতি। আর সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে প্রবাসের নারী কর্মীরা।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট।