বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু শিবির পরিদর্শনে জাতিসংঘ মহাসচিব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১০:০৭

কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু শিবির পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ঘুরে ঘুরে সেখানে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখেন তিনি। উদ্বাস্তু শিবিরে রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পণ্যও পরিদর্শন করেছেন তিনি। এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘ মহাসচিব একযোগে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতার করেন।
এর
আগে ১৪ মার্চ দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের একটি
চার্টার্ড ফ্লাইটে কক্সবাজারে এসে পৌঁছান জাতিসংঘ মহাসচিব। দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তাদের
বহনকারী উড়োজাহাজটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিব কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে
বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতা সেরে উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে
তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছেন
জাতিসংঘ মহাসচিব।
উখিয়ায়
উদ্বাস্তু শিবির পরিদর্শনকালে জাতিসংঘ মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দৃঢ়কণ্ঠে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলতে চাই, ‘আমাদের জরুরি ভিত্তিতে আরো সহায়তা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে মর্যাদার
সঙ্গে বসবাস করার জন্য এ সহায়তা অপরিহার্য।’
জাতিসংঘ
মহাসচিবের বক্তব্যে উঠে আসে, রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় তা উদ্বাস্তু শিবির
পরিদর্শন করে বুঝতে পেরেছেন তিনি।
বাংলাদেশে
রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কমে আসা ঠেকাতে জাতিসংঘ সম্ভাব্য সবকিছু করবে
বলে প্রতিশ্রুতি দেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র
ও ইউরোপীয় দেশগুলো মানবিক সহায়তা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে রোহিঙ্গাদের রেশন
বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তহবিলের অভাবে মানুষের যেন আরো বেশি কষ্ট পেতে
না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমি বিশ্বের সব দেশকে আহ্বান জানাব, যারা আমাদের সহায়তা করতে
পারে।’
কক্সবাজারে
যাওয়ার আগে ১৪ মার্চ দুপুরে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি উঠে আসে। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব
জানান, মিয়ানমারের বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে
রমজান মাসে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।
বৈঠকে
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা কমে আসা
নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে এতটা বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো জনগোষ্ঠী আমি দেখিনি।’
এ
সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলতে বসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানবিক সহায়তা কমানো একটি অপরাধ। পশ্চিমা দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা খাতে
ব্যয় দ্বিগুণ করছে, কিন্তু একই সঙ্গে আবার বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা সংকুচিত হচ্ছে।’
রোহিঙ্গাদের
আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ‘অপরিসীম কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি অত্যন্ত উদারতা দেখিয়েছে।’
এ
সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
একই সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের জন্য সহায়তা সংগ্রহের প্রয়াস চালানো হবে বলেও
জানিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র:
দৈনিক বণিক বার্তা