ঈদ ছুটিতে প্রবাসীদের আগমন, আনন্দমুখর ঢাকা এয়ারপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ১০:০৩

বরগুনা সদরের দেলোয়ার হোসেন (৫০)। পরিবারে অভাব-অনটনের কারণে ১২ বছর আগে চলে যান সৌদি আরব। দীর্ঘ এই সময়ে একটি ঈদও কাটেনি পরিবারের সঙ্গে। আগে থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবারের ঈদ কাটাবেন চার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর সঙ্গে। এ জন্য শনিবার দুপুরে এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। ক্যানোপিতে হাসিমুখে প্রিয়জনদের খোঁজ করছিলেন তিনি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হলেও সামলে নিয়ে ভালো লাগার কথা জানান।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদেশে তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ১২ বছর পর দেশে এসে তার খুব ভালো লাগছে। ঈদের জন্য সৌদি থেকে পরিবারের জন্য কেনাকাটাও করেছেন। শুধু দেলোয়ার হোসেন নয় ৯ বছর পর একই দেশ থেকে আসা ইউসুফের চোখেমুখেও ছিল অন্যরকম এক ভালোলাগা। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ইউসুফ এসেছেন একই ফ্লাইটে। ইউসুফ জানান, শুধু ঈদ করবেন বলে দেশে এসেছেন। এক মাসের ছুটি শেষ তিনি আবার ফিরবেন। ইউসুফ সৌদি আরবে গাড়ি চালান বলে জানান।
কথা হয় আজরুল, আবু সাঈদ, শিপনসহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে। তারা সবাই দীর্ঘদিন পর দেশে এসেছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীদের দেশে আসার এ জোয়ারে জমজমাট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্যানোপিতে স্বজনের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। ভিড় সামলাতে ব্যস্ত এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
দেখা যায়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, ওমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা ঈদ সামনে রেখে স্বজনের কাছে ফিরছেন। প্রতিদিন হাজার হাজার প্রবাসী ও প্রবাসীদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনের পদচারণায় এখন বিমানবন্দর মুখরিত। আর বিমানবন্দরে এ ভিড় সামলাতে ব্যস্ত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।
এভিয়েশন সিকিউরিটি প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যাত্রীদের যেন কোনো প্রকার হয়রানি না হয়, সে ব্যাপারে প্রতিটি সদস্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি তিনি বলেন, “লাগেজ কাটা কিংবা মালামাল যাতে চুরি বা না হারায়, সে ব্যাপারেও আমরা সচেষ্ট। যাত্রীরা যেন সেবা পান, সেই চেষ্টা থাকে, সেটাই নিশ্চিত করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাত্রীরা সঠিক সময়ে লাগেজ পাচ্ছে। তবে যখন একসঙ্গে অনেকগুলো ফ্লাইট নামে, তখন একটু সমস্যা হয়। সেটিও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ সহকারী সুপার রাকিবুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই যাত্রীদের চাপ থাকে। এখন ঈদ মৌসুম হওয়ায় এই চাপ দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি বলেন, যাত্রীরা যেন নিরাপদে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারে, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।
বিমানবন্দর কাস্টমের উপকমিশনার ইফতেখার আলম ভুঁইয়া বলেন, ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের অনেক চাপ। তবে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য আমাদের সব কর্মকর্তা সচেষ্ট রয়েছেন।
রিপোর্টসূত্র: ইমরান আলী, বাংলা ট্রিবিউন