লিবিয়া ও তিউনিশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৬১ বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৭:২২

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে আটকে পড়া আরো ১৪৪ জন এবং টিউনিশিয়া থেকে ১৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন৷ ২৭ মার্চ ঢাকায় পৌঁছেছেন তারা৷
লিবিয়ার ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও লিবিয়ার ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় ১৪৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ এদের সঙ্গে ছিলেন টিউনিশিয়ায় অনিয়মিত অবস্থায় থাকা আরো ১৭ জন বাংলাদেশি৷
লিবিয়ার বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে করে বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ ২৭ মার্চ সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইটটি৷
লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে ৫৫ জন ত্রিপোলির তাজুরা আটক কেন্দ্রে আটক ছিলেন৷ এছাড়া ১৪ জন বাংলাদেশি ত্রিপোলিতে অনিয়মিত অবস্থায় অর্থনৈতিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ছিলেন৷ অবশিষ্ট ৭৫ জন বিপদগ্রস্ত অবস্থায় মিসরাতা থেকে দেশে ফিরেছেন৷ এদের মধ্য ছয় জন বাংলাদেশি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন৷
তাজুরা আটক কেন্দ্রে আটক থাকা অভিবাসীদের লিবিয়ার অভিবাসন অধিদপ্তরের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বিদায় জানান দেশটিতে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার৷ মোট ৬৯ জন বাংলাদেশিকে ত্রিপোলি থেকে একটি ফ্লাইটে করে লিবিয়ার আরেক শহর মিসরাতায় নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখান থেকে সব বাংলাদেশিকে একসঙ্গে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে৷
এ সময় অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত৷ দেশে ফিরে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷
লিবিয়ার আরেকটি শহর মিরসাতা থেকেও দেশে ফিরেছেন ৭৫ বাংলাদেশি৷ তবে তাদের মধ্যে ২৮ জন্য বাংলাদেশিকে নিয়ে দূতাবাস ছিল বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন৷
দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি কর্মীরা লিবিয়ায় আসার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না পাওয়া, বেতন বৈষম্য ও চুক্তির শর্ত নিয়ে অসন্তুষ্টিতে ভুগছিলেন৷ তাদের দিয়ে কাজ করানো হলেও ঠিক মতো বেতন পরিশোধ করা হচ্ছিল না৷ কেউ কেউ শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দূতাবাসে অভিযোগ করেছেন৷
এমনকি তারা দেশে ফিরে যেতে চাইলেও নিয়োগকারী তৃতীয় কোম্পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাদের ছাড়তে রাজি ছিল না৷ এমন পরিস্থিতিতে দূতাবাসের সহযোগিতা চান এসব বাংলাদেশি। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আইওএমের সহযোগিতা নিয়ে এসব বাংলাদেশির দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে দূতাবাস৷
এসব কর্মীর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দূতাবাসকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস৷ গত বছরের ১০ নভেম্বর দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসরাতা পরিদর্শন করেন৷ স্থানীয় প্রশাসন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন৷
লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল৷ সবার সমঝোতার ভিত্তিতে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করা শ্রমিকদের ছাড় দেয়া হয়৷ এরপর ওই ২৮ বাংলাদেশিকে নিয়োগকারী এজেন্সির ডর্মেটরিতে রাখা হয়৷ সেখানে তাদের খাদ্য ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দূতাবাস৷
আইওএমের সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিকদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং লিবিয়ার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট তদন্ত বিভাগের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বহির্গমন ভিসা-সংক্রান্ত জরিমানা মওকুফ করানো সম্ভব হয়েছে৷
দেশে ফিরে এসব বাংলাদেশির অনেকেই টেক্সট এবং অডিও বার্তা পাঠিয়ে দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷
এদের মধ্যে একজন লিখেছেন, “আপনাদের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে লিবিয়ায় নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষেরা যে পরিমাণ সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছে, তা বাংলাদেশের অন্য কোনো দূতাবাস থেকে পেয়েছে কিনা, আমার জানা নেই৷ আমি মনে করি, যদি অন্য দূতাবাসগুলোও আপনাদের মতো এমন পরিশ্রম ও সহানুভূতি প্রদর্শন করত, তাহলে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যেত৷’’
এই ২৮ বাংলাদেশিকে প্রথম সচিব (শ্রম) রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসরাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানায়৷ এ সময় তাদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দূতাবাসের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টা সম্পর্কে জানানো হয়৷
তাদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে তিউনিশিয়া আটকে পড়া ১৭ জন বাংলাদেশিকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা৷