
বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী কাল উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মোবারক।
সাধারণত সৌদি আরবে ঈদ উদযাপনের পরদিন বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হয়। রোববার সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশের আকাশে শাওয়ালের চাঁদের দেখা পাওয়া প্রত্যাশিতই ছিলো।
চাঁন রাতে সাধারণত কাঁচা বাজারে কেনাকাটার ধুম লাগে। তবে এবছর, স্বাধীনতা দিবসসহ নানান ছুটি থাকায়, আগে ভাগে কেনাকাটার সুযোগ পেয়েছে মানুষ। তাই বাজারে কেনাকাটার শোরগোল কম। তবে ঈদের চাঁদ দেখার পর শেষ মুহুর্তের কেনাকাটার জন্য বাজারে ছুটতে হয়েছে অনেকে। সাধারণত মাংস, মসলা ও সেমাইসহ শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা শেষ করতে বাড়িতে বাড়িতে গিন্নিদের চাপ থাকে। সেই চাপ সামলাতে ঘরে ঘরে কর্তারা বাজারে ছোটেন।
শহরে সাধারণত সেমাই, পায়েসসহ মিষ্টিজাতীয় খাবার ঈদের আগের রাতে করা হয়ে যায়। তবে গ্রামে সেমাই রান্না হাড়িতে চড়ে ভোর সকালে। যাতে ঈদের নামাজ পড়ার পর, বাড়ির ছেলে বুড়োরা মিষ্টিমুখ করে ঈদের দিনটা শুরু করতে পারে। বাড়ির ছেলে-পুরুষরা ঈদের নামাজে চলে গেলে, পোলাও, মাংস রান্নার ধুম পড়ে বাড়িতে বাড়িতে। দুপুরের খাবারের আগেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেমাই খাওয়া রেওয়াজ। বড়দের সালাম করা, সালামি নেয়ার রীতি এখনো পুরোনো হয় নি। বরং দিনকে দিন তা আরো জোরদার হয়েছে।
চাঁন রাত অনেকের কাছে বিশেষ স্মৃতি বিজড়িত। গ্রামে মেহেদি পাতা তুলে মিহি বাটা তারপর বাহারি ডিজাইনে তা হাতে তোলা মেয়েদের কাছে এক অকৃত্রিম আনন্দের অনুভূতি। বাড়ির বড় মেয়েরা যারা একাজে পটু তাদের ডিম্যান্ড বেড়ে যেতো এ রাতে। মেহিদী ডিজাইনারদের কাছে হাত পেতে বসা, ঘিরে থেকে বাকিদের এই দৃশ্য দেখা এখনো পুরনো হয়নি। শহরে অবশ্য শপিং মলগুলোতে রীতিমতো ভীড় জমিয়ে মেহেদি উৎসব শুরু হয় চাঁদ রাতে। মেহেদি দেয়া চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
নতুন জামা আর নতুন জুতার গন্ধ নেয়া শৈশবের স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে চাঁন রাতে। ঈদের আগে জামা দেখলেই তা পুরনো হয়ে ঈদটাই বাতিল হবার ঝুঁকি থাকতো। তাই কিশোর-কিশোরীদের নতুন জামা জুতা লুকিয়ে রাখার রেওয়াজ ছিলো। কেউ দেখে ফেললে কান্নার রোল পড়তো ঘরে।
চকচকে জামা আর মচমচে জুতা পরে ঈদের মাঠে যাওয়ার মতো আনন্দের স্মৃতি মানুষের মন থেকে হারিয়ে যায় না কখনো। নামাজ শেষে ঈদের মাঠ ভাঙলে সফেদ পোষাকের মানুষের এমন স্রোত বোধ হয় কেবল মুসলিম বিশ্বের এক স্বকীয় দৃশ্য। নামাজ শেষের কোলাকুলির মতো সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এভাবে দেখা যায় না।
তাই ঈদ মানে অনাবিল এক আনন্দের দিন। যে দিনটি মানুষকে হাসতে শেখায়, ভালোবাসতে শেখায়।