Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশি নারীর টুপিতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের ঈদ উদযাপন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:২২

বাংলাদেশি নারীর টুপিতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের ঈদ উদযাপন

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের নারীদের হাতে তৈরি টুপি এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদ উৎসবের অংশ হয়ে উঠেছে। এসব টুপি সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে রপ্তানি হয়। এতে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে লাখ লাখ ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা।

নওগাঁ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গ্রামের নারীরা ঘরে বসেই এই টুপি তৈরির কাজ করেন। সূক্ষ্ম নকশা, সুই-সুতার কারুকাজ ও মানসম্মত ডিজাইনের কারণে এসব টুপির চাহিদা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। একেকটি টুপি তৈরি করতে সময় লাগে দুই থেকে সাত দিন। টুপির মান অনুযায়ী প্রতিটি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

গ্রামীণ নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি এই পেশার মাধ্যমে আয় করছেন। অনেকের জন্য এটি পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কুঞ্জবন গ্রামের শান্তি ওঁরাও বলেন, "মহাজন আমাদের কাপড় ও সুতা দিয়ে যান, আমরা শুধু নকশা তুলে দিই। মাসে গড়ে ৪-৫ হাজার টাকা আয় হয়, যা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।"

এই শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা জীবন আহম্মেদ জানান, বছরের দুই ঈদ সামনে রেখে টুপির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এ সময়ে লাখ লাখ টাকার টুপি রপ্তানি হয় ওমান, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে। শুধু তার প্রতিষ্ঠান থেকেই এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি টাকার টুপি রপ্তানি হচ্ছে।

তবে টুপি বুনন শিল্পে গ্রামীণ নারীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নওগাঁ বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক শামীম আক্তার মামুন বলেন, "নারীরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো দক্ষ হলে তাদের আয় বাড়বে। আমরা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছি, পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করব।"

গ্রামবাংলার এই টুপি শিল্প শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছে না, বরং বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবেও স্থান করে নিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খাত ভবিষ্যতে আরো ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

Logo