উচ্চশিক্ষায় সন্তানকে বিদেশ পাঠাবেন? জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৫, ১০:১৫

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ। তবে শিক্ষার্থীরা এককভাবে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারলেও, অভিভাবকদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। তাই, একজন অভিভাবক হিসেবে কীভাবে আপনার সন্তানকে বিদেশে পাঠানোর জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন, তা জানা জরুরি।
কোন
দেশে যেতে চান?
প্রথমেই
নির্ধারণ করতে হবে, কোন দেশে আপনার সন্তান উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চায়। জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর
মধ্যে রয়েছে:
- যুক্তরাষ্ট্র (F-1 ভিসা)
- যুক্তরাজ্য (Tier 4 স্টুডেন্ট ভিসা)
- কানাডা (Study Permit)
- অস্ট্রেলিয়া (Subclass 500 ভিসা)
- জার্মানি (National Visa for Study Purpose)
ভিসার
জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি
বিদেশে
পড়তে যাওয়ার জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হতে পারে। তাই শুরুতেই নিচের ধাপগুলো
অনুসরণ করুন:
১.
উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন করুন
-
প্রথমে সন্তানকে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান, যা সরকার অনুমোদিত এবং বিদেশি
শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা অফার করে।
-
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার (Offer Letter) পাওয়ার পরেই ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।
২.
ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
প্রত্যেক
দেশে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নথিপত্র প্রয়োজন হয়। সাধারণত যা লাগে:
- বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার
- পাসপোর্ট (অন্তত ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (SSC, HSC, Bachelor সার্টিফিকেট)
- ভর্তি ফি বা টিউশন ফি জমার রসিদ
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহনের
জন্য যথেষ্ট অর্থ আছে তা প্রমাণ করতে হবে)
- ভিসা আবেদন ফরম ও আবেদন ফি
- ভিসা ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি (যদি প্রযোজ্য হয়)
৩.
আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করুন
-
অধিকাংশ দেশেই দেখাতে হয় যে শিক্ষার্থী এবং তার অভিভাবক পড়াশোনার খরচ চালাতে সক্ষম।
-
এর জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন, স্পন্সরশিপ লেটার ইত্যাদি জমা দিতে হয়।
-
যুক্তরাজ্যের জন্য ২৮ দিন ধরে ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকতে হবে।
৪.
ভিসার আবেদন করুন
-
দেশভেদে ভিসা আবেদন অনলাইনে অথবা দূতাবাসের মাধ্যমে করা যায়।
-
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে
হয়।
-
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর ভিসা ইন্টারভিউ দিতে হতে পারে।
৫.
ভিসা ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিন
অনেক
দেশে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। ইন্টারভিউয়ের সময় সাধারণত শিক্ষার্থীর
শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।
বিশেষ
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সঠিক তথ্য দিন: আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিলে ভিসা বাতিল হতে পারে।
প্রতারণা এড়িয়ে চলুন: এজেন্ট বা দালালের মাধ্যমে আবেদন না করাই ভালো।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবেদন করুন: কিছু দেশে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ৩-৬ মাস সময় নিতে পারে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা: কিছু দেশে ভিসার জন্য মেডিকেল চেকআপ আবশ্যক (যেমন অস্ট্রেলিয়া,
কানাডা)।
সন্তানের
জন্য স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত
তথ্য সংগ্রহ, এবং নিয়ম মেনে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই সময়মতো
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন করলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও সফল হবে।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট