তাইওয়ানে লেখাপড়া
৫ আইইএলটিএস স্কোরেই আকর্ষণীয় বৃত্তিসহ কাজের সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০০:২৭

তাইওয়ানে উন্নত জীবনযাত্রা, আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থার কারণে অনেকেরই গন্তব্য হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরের দেশটি আকর্ষণের কেন্দ্রে। স্বল্পব্যয়, সামাজিক সুযোগ-সুবিধা, কাজের সহজলভ্যতার জন্য তাইওয়ান এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যপক জনপ্রিয়। বিশ্বের ৪৩তম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে তাইওয়ান পরিচিত পৃথিবীর শীর্ষ অপরাধমুক্ত দেশগুলোর তালিকার চতুর্থ হওয়াতেও।
বাংলাদেশ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য সহজেই যাওয়া যায় তাইওয়ান। দেশটির প্রধান ভাষা তাইওয়ানিজ মান্ডারিন ও স্ট্যান্ডার্ড চায়নিজ। এরপরও স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরালের জন্য আলাদা করে মান্ডারিন বা চায়নিজ শেখার প্রয়োজন পড়ে না। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর ও মাস্টার্সের প্রতিটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত ইংরেজি ভাষার কোর্স। ইংরেজি ভাষা দক্ষতার জন্য প্রয়োজন হবে আইইএলটিএস স্কোর ৫ দশমিক ৫ থেকে ৬ স্কোর কিংবা টোয়েফল আইবিটি স্কোর ৭১ থেকে ৮০।
তাইওয়ানে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি, সোশ্যাল সায়েন্স, ম্যানেজমেন্ট, ন্যাচারাল সায়েন্স, লাইফ সায়েন্স, মেডিসিন, আর্টস, হিম্যানিটিস, মান্ডারিন চায়নিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্কলারশিপ পাওয়া যায়। সেপ্টেম্বর (ফল) ও ফেব্রুয়ারি (স্প্রিং) এই দুই মাস হলো তাইওয়ানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তির মৌসুম। এর মধ্যে ফল তথা সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কোর্স বাছাইয়ের সুযোগ থাকে। ভর্তির আবেদন অনলাইনে হয়। এর জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম। আবেদনের শেষ সময়সহ ভর্তি সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো জানার জন্য অবশ্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটগুলো পরিদর্শন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন ও জীবনযাত্রার খরচ মেটানোর জন্য দেশটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত স্কলারশিপের সুযোগ। এর মধ্যে তাইওয়ান স্কলারশিপ প্রোগ্রামে রয়েছে ২৫ হাজার এনটিডির (৯৩ হাজার ৫৮২ টাকা) মাসিক উপবৃত্তি। তাইওয়ান আইসিডিএফ স্কলারশিপ স্নাতকদের জন্য প্রতি মাসে দিয়ে থাকে ১২ হাজার এনটিডি (৪৪ হাজার ৯২০ টাকা)। আর মাস্টার্সের জন্য বরাদ্দকৃত এ পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার এনটিডি (৬৭ হাজার ৩৭৯ টাকা)। সেই সঙ্গে মাসিক ২০ হাজার এনটিডি (৭৪ হাজার ৮৬৬ টাকা) রাখা হয় পিএইচডির জন্য। হুয়াইউ এনরিচমেন্ট স্কলারশিপের মাসিক উপবৃত্তির পরিমাণ ২৫ হাজার এনটিডি (৯৩ হাজার ৫৮২ টাকা)।
তাইওয়ানে একজন শিক্ষার্থীর স্নাতক প্রোগ্রামে বার্ষিক খরচ হতে পারে ৫৩ দশমিক ২ হাজার থেকে ৮৪ হাজার এনটিডি, যা প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৪২ থেকে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৫ টাকার সমতূল্য। স্নাতকোত্তরের জন্য বার্ষিক বাজেট রাখতে হবে ৩৩ হাজার থেকে ১৬৮ হাজার এনটিডি (১ লাখ ২৩ হাজার ৫২৭০ থেকে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৭০ টাকা)। বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার এনটিডির (১১ হাজার ২৩০ টাকা) মুদি কিনে থাকেন। বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে লোকাল মার্কেটে কমপক্ষে ৬০ এনটিডি (২২৫ টাকা) খরচ হতে পারে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে সিটি বাসের মাসিক পাস ৫০০ এনটিডি (১ হাজার ৮৭২ টাকা)। তাইপেই মেট্রোর ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) মাসিক ভাড়া ৭০০ এনটিডি (২ হাজার ৬২১ টাকা)। আবাসনের ভাড়া নির্ভর করে তার অবস্থানের উপর। শহরের সিটি সেন্টারের বাইরে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নিতে পারে প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার এনটিডি (৪৪ হাজার ৯২০ টাকা)। ইউটিলিটির জন্য মাসিক বাজেট রাখতে হবে ২ হাজার এনটিডি (৭ হাজার ৪৮৭ টাকা)।
তাইওয়ানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার চলাকালে কাজের সুযোগ রয়েছে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত। তবে এই পার্টটাইম কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমটি হলো এলিয়েন রেসিডেন্স সার্টিফিকেট বা এআরসি কার্ড নেওয়া। এটি তাইওয়ানে বসবাসের সময় বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের পরিচয়পত্র, যা দেশটিতে আইনি বসবাসের প্রমাণপত্র। তাইওয়ানে বিমান থেকে নেমেই শিক্ষার্থীদের প্রথম কাজ থাকে এই কার্ডের জন্য আবেদন করা। দ্বিতীয় প্রয়োজনীয় বিষয়টি হলো ওয়ার্ক পারমিট। এই পারমিটের জন্য শিক্ষার্থীকে ওয়ার্ক ফোর্স ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বরাবর আবেদন করতে হয়। প্রতিটি পারমিট সাধারণত শুধু এক সেমিস্টার বা ছয় মাসের জন্য বৈধ থাকে। ওয়ার্ক পারমিট বৈধ থাকা অবস্থাতেই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার আগেই আবার আবেদন করা আবশ্যক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নন-একাডেমিক চাকরির মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্টে কাজ করা এবং বিক্রয় সহকারী হিসেবে কাজ করা। অন্যদিকে একাডেমিক চাকরির উদাহরণ হলো গবেষণা সহকারী/শিক্ষণ সহকারী, অনুবাদক এবং একটি ক্র্যাম স্কুলে ভাষা শেখানো। এ খণ্ডকালীন চাকরিগুলো থেকে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ৪০০ এনটিডি (৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা) আয় করা যায়।
তাইওয়ানে একটানা কমপক্ষে পাঁচ বছর অবস্থান করলে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করা যায়। এ সময়ের মধ্যে কোনোরূপ অপরাধের রেকর্ড থাকা যাবে না, নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকতে হবে এবং দেশের জাতীয় সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
তাই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পড়াশোনা শেষে চাকরির ব্যবস্থা বা ব্যবসা শুরু করতে হয়। এ কাজগুলো সম্পাদনে স্নাতকের পরে একজন ফ্রেশ স্নাতক তাইওয়ানে অতিরিক্ত ছয় মাস থাকার অনুমতি পান। চাকরির খোঁজার জন্য আরো সময়ের প্রয়োজন হলে আরো ছয় মাস মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা যেতে পারে।
দেশটিতে ফুলটাইম চাকরির ক্ষেত্রে বার্ষিক গড় বেতন প্রায় ১ লাখ থেকে ৬ দশমিক ৭ লাখ এনটিডি। বাংলাদেশে এর পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩২৭ থেকে ২৫ লাখ ৭ হাজার ৯৯১ টাকা। এই চাকরিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, নার্স, মার্কেটিং ম্যানেজার, বিক্রয়কর্মী, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো