
বিদেশে পড়তে যেতে চাইলে দরকার হবে লম্বা প্রস্তুতি।
ইচ্ছে হলেই বিদেশে পড়তে যেতে পারবেন না। এর জন্য দরকার হবে লম্বা প্রস্তুতি। বিভিন্ন বিষয়ে নিতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত আর মনোবল থাকতে হবে অবশ্যই। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সাথে মিল রেখে করতে হবে কিছু বিশেষ কাজ। কি কি বিষয় মনে রাখতে হবে আর কি কি কাজগুলো করতে হবে সেগুলো পর্যায়ক্রমিক ভাবে সাজিয়ে নিলে সুবিধে হবে। সেগুলো নিয়েই এই লেখা। আশা করি আপনার উপকার হবে।
১. সার্টিফিকেটে ভুল সংশোধন - আপনার নাম এবং আপনার পিতামাতার নামের সাথে মিল রেখে সার্টিফিকেটে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নিন। হতে পারে নামের বানানে ভুল বা সামান্য অন্য কিছু। এ সময়ে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন আপনার পিতামাতার ভোটার আইডিতে যে নাম আছে ঐ নামই যেন সার্টিফিকেটে থাকে। মোট কথা ভালোমতো খেয়াল করবেন আপনার জন্মসনদ, সার্টিফিকেট এবং বাবা মায়ের এনআইডিতে যেন সেম নাম আছে কিনা?
২. পাসপোর্ট তৈরি - পাসপোর্ট তৈরির সময় পূর্বের সার্টিফিকেটের মতো নাম এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার দিকে খেয়াল রাখবেন। এমন যেন না হয় জন্মসনদে আছে বর্তমান ঠিকানা বরিশাল কিন্তু পাসপোর্টে কোনোভাবে এসে গেছে নোয়াখালী।
৩. সার্টিফিকেট সংগ্রহ - SSC, HSC এর নম্বরপএ এবং সার্টিফিকেট বোর্ড থেকে সংগ্রহ করা। সেইসাথে মাস্টার্স কোর্সের জন্য যেতে চাইলে অনার্সের সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংগ্রহ করে নেয়া।
৪. সত্যায়িত করা - সার্টিফিকেট সংগ্রহের পর আরেকটি জরুরী কাজ সেগুলো প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষা, এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে নেয়া।
৫. IELTS preparation - আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রিপারেশন টা একটু আগে থেকেই নেওয়া ভালো। কারন অনেকের কাঙ্খিত স্কোর তুলতে অনেক বেশি সময় লেগে যায় এবং এই সময়ের কারণে, অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন মিস করে ফেলে, যার জন্য এডুকেশন গ্যাপ বেড়ে যায়। যার জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, তাই আগে শুরু করলে আগে শেষ হবে এবং সময় বাচবে।
৬. GRE/ GMAT প্রস্তুতি - স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের স্টুডেন্টদের জন্য SAT/ ACT পরীক্ষা এবং স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের জন্য GRE/ GMAT পরীক্ষার প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখা ভালো। জরুরীও বটে।
৭. রেকমেন্ডেশন লেটার - আপনার পরিচিত বা যে সকল শিক্ষকরা আপনাকে ভালো জানে, এই সকল শিক্ষকদের মধ্য থেকে দুইজন টিচারের রেকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ করে রাখা।
৮. SOP লেখার প্রিপারেশন - বিদেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য SOP লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রিপারেশন একটু আগে থেকেই নেওয়া ভালো। কিভাবে আপনি এটি লিখবেন, এর জন্য অভিজ্ঞ কারো সহযোগিতা নেওয়া এবং নিজের মতো করে একটা প্রস্তুতি নেওয়া যাতে SOP ভাষাটা নিজের মতো করে করা যায়।
৯. বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবজেক্ট খোজা - ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে মিল রেখে আপনি যে দেশে পড়তে যেতে চাচ্ছেন ওই দেশের মিনিমাম পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে বের করে রাখা। এবং যে সাবজেক্টে পড়তে চান ওই সাবজেক্টটা যেন আপনার পূর্বের পড়া সাবজেক্ট এর সাথে মেলে তা সেটা খেয়াল রাখা।
১০. সাধ ও সাধ্যের সম্বনয় - আপনার বাজেট, আপনার পছন্দের শহর সহ সব কিছু বিষয় মাথায় রেখে মিনিমাম পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ সিলেক্ট করা। সম্ভব হলে আগে থেকেই পছন্দ করে রাখাঅ
১১. সময় মতো আবেদন - আপনি যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করবেন সে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের ডেডলাইনের দিকে খেয়াল রাখা এবং সে অনুযায়ী আগে থেকেই আবেদন করা।
১২. ভলেন্টিয়ার সংগঠনে যুক্ত হওয়া/থাকা - আপনি যদি খুব সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন করে সিলেক্ট হতে চান বা স্কলারশীপ পেতে চান এবং সহজেই ভিসা পেতে চান তাহলে কিছু ভলেন্টিয়ার সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা এবং তার যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে রাখা। এগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিরাট সুবিধার কারন হয়।
১৩. নিজের কাজ শেখা - বিদেশে গেলে বেশিরভাগ সময় আপনাকে নিজেকে নিজের রান্না করে খেতে হবে সুতরাং আগে থেকেই দেশ থেকে রান্না শিখে যাওয়া টা ভালো।
১৪. ড্রাইভিং শেখা - যদি সম্ভব হয় ড্রাইভিংটাও শিখে ফেলুন, ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে রাখুন। যদি আরও সম্ভব হয় তাহলে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্সটাও তৈরি করে রাখা।
১৫. কম্পিউটার স্কিল - যদি সম্ভব হয় তাহলে কম্পিউটারে নিজের স্কিল দেশ থেকে আপগ্রেড করে যান। যেমন microsoft-office, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টের কাজ শেখা। সম্ভব হলে এ সম্পর্কিত সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রাখা। এটা বিদেশে আপনাকে অনেক সাপোর্ট দেবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সাথে মিল রেখে এই ১৫ টা পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত। এগুলো ফলো করলে বিদেশ যাত্রার মতো কঠিন কাজ সহজ হয়ে যাবে।