
বিদেশে পড়াশোনা করে জীবনের উন্নতি অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। কিন্তু পড়াশোনার খরচের ধাক্কা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অনেকে। তারা চেষ্টা করেন স্বল্প খরচের বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নিতে। এশিয়ায় কিছু দেশ রয়েছে যেখানে শিক্ষার মান ভালো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি কম, জীবনযাত্রার ব্যয় স্বল্প এবং বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপের সুযোগও পাওয়া যায়। যেমন:
মালয়েশিয়া: তুলনামূলকভাবে কম খরচে উচ্চশিক্ষার জন্য বিখ্যাত মালয়েশিয়ার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা আন্তর্জাতিক মানের। পড়াশোনাও ইংরেজি মাধ্যমে। দেশটির সেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, Universiti Malaya, Universiti Kebang saan Malaysia (UKM), Monash University Malaysia।
এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুমানিক খরচ যদিও বিষয় ভেদে কম- বেশি হবে তবে সাধারণভাবে টিউশন ফি প্রতি বছর ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। জীবনযাত্রার খরচ প্রতি মাসে ৩০০-৬০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
চীন: চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বমানের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রগামী চীনের নানান বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে বিভিন্ন স্কলারশিপের সুযোগ। দেশটির কম খরচের বিশ্বমানের পড়াশোনার জন্য বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি Tsinghua University, পিকিং ইউনিভার্সিটি Peking University, ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি Zhejiang University।
এসব ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার আনুমানিক টিউশন ফি প্রতি বছর ২ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ডলারের মধ্যে হয়। জীবনযাত্রার খরচ প্রতি মাসে ৩০০-৭০০ ডলার। আর চায়না সরকারের স্কলারশিপ পেয়ে গেলে সব খরচ মাফ।
তুরস্ক: আরতুরুল আর সুলতান সুলেমানের দেশ তুরস্ক শিক্ষা ব্যবস্থায় এনেছে গুণগত পরিবর্তন। ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তের বিশেষত মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা পড়তে যেতে চান তুরস্কে। দেশটি ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের অংশ, যা বোলোগনা প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এতে করে তুর্কি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি সব ইউরোপে স্বীকৃতি পায়। দেশটিতে পড়াশোনার খরচ সাশ্রয়ী। সাধারণত প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ থেকে ৪ হাজার ইউরোর মতো খরচ দিতে হবে শিক্ষার্থীকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে পড়াশোনার চেয়ে তা অনেকাংশেই কম। তাছাড়া একজন বিদেশি শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৬৫০ ইউরো বাজেটের মধ্যে তুরস্কে থাকতে পারেন।
তাইওয়ান: প্রযুক্তির দেশ মানেই তাইওয়ান। চীনের অংশ হলেও ঐতিহ্যগতভাবে তাইওয়ানের মানুষ বন্ধুবৎসল। এখানে ইংরেজি ভাষায় অধ্যয়নের জন্য প্রচুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বহু সাংস্কৃতিক এবং সমৃদ্ধ পুরোনো ইতিহাস পরিদর্শনে তাইওয়ান বিদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। বেশ কয়েক বছর ধরেই তাইওয়ানের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং দারুণ স্বীকৃতিও পেয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনার খরচ প্রতি বছর ১৬শ থেকে ৪৬শ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। জীবনযাত্রার খরচ ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
৬৭৫ থেকে ১২ হাজার ৭০০ ইউরো। এখানে ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬৮০ থেকে ৮৮০ ইউরো খরচ করতে হবে।
থাইল্যান্ড: থাইল্যান্ডেও তুলনামূলকভাবে কম খরচে উচ্চশিক্ষা নেয়া সম্ভব। এদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে বিশেষ স্কলারশিপ। আছে আধুনিক ক্যাম্পাস। থাইল্যান্ডের এমন কম খরচের ইউনিভার্সিটিগুলো হলো, চুলালংকর্ন Chulalongkorn University, মাহিদল Mahidol University, Chiang Mai University।
এসব ইউনিভার্সিটিতে আনুমানিক টিউশন ফি প্রতি বছরে ৩,০০০-৮,০০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে তাকে। আর জীবনযাত্রার খরচ প্রতি মাসে ২৫০-৫০০ ডলার।
কম খরচে ভালো মানের শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া, চীন ও ভারত সেরা অপশন। তবে, আপনি যদি মেডিকেল পড়তে চান, তাহলে ফিলিপাইন ভালো হতে পারে। গবেষণা ও প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য চীন ও ভারত বেশ উন্নত। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো পরিবেশ ও ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদানের সুবিধা দেয়।