২০২৪ সালে উপকূল থেকে ৫৫ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে তুরস্ক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৭

গত বছর তুর্কি উপকূল থেকে সমুদ্রে যাত্রা করতে গিয়ে অন্তত ৪৫ জন অভিবাসী নৌকাডুবিতে মারা গেছেন।
তুর্কি কোস্ট গার্ড ইউনিট গত বছর দেশটির বিভিন্ন উপকূল থেকে ৫৫ হাজার ৪৬৭ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করেছে৷ এসব অভিবাসীরা তুরস্ক থেকে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট ব্যবহার করে ইউরোপের দিকে যাত্রার চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে আঙ্কারা৷
তুরস্কের সরকারী পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অনিয়মিত অভিবাসনের ঘটনা ঘটেছে আগস্টে মাসে৷ ওই মাসে ২৪৫টি যাত্রা নথিভুক্ত করা হয়। তারপরেই রয়েছে সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বর মাস৷ ২০২৪ সালের পুরো সময়জুড়ে তুরস্কের কোস্টগার্ড অভিবাসী পাচারে জড়িত চক্রের সন্দেহভাজন ৪৮৪ জন সদস্যকে আটক করেছে৷ এছাড়া গত বছর তুর্কি উপকূল থেকে সমুদ্রে যাত্রা করতে গিয়ে অন্তত ৪৫ জন অভিবাসী নৌকাডুবিতে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে তুরস্ক৷
গত ১০ বছরে আফ্রিকান এবং এশীয় দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের অন্যতম গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো৷ তুরস্কের পশ্চিম উপকূল থেকে গ্রিসে প্রবেশের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার অনিয়মিত অভিবাসী প্রতি বছর তুরস্কে ভিড় করেন৷ মানব পাচাররীদের সহায়তায় স্থল এবং সমুদ্র পথে অভিবাসীরা প্রায়শই বিপজ্জনক যাত্রা করে থাকেন। অনেকেই সফল হয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে পারলেও, বড় একটি অংশকে নিয়মিত তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে থাকে৷ ইইউ সীমান্ত সংস্থা (ফ্রন্টেক্স) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে অন্যান্য দেশে আসা অভিবাসী সংখ্যা হ্রাস পেলেও ২০২৩ সালের তুলনায় গ্রিসে আগমন বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ৷
২০২৪ সালের শুরু থেকে প্রায় ৩৭ হাজার অনিয়মিত অভিবাসী গ্রিসে এসেছে৷ যাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার লোক তুরস্কের পশ্চিম উপকূল এবং পূর্ব এজিয়ান সাগরের গ্রিক দ্বীপপুঞ্জগুলোতে অবস্থিত অভিবাসন রুট ব্যবহার করেছেন৷
অর্থাৎ খুব কম লোকই গ্রিস এবং তুরস্কের মধ্যে অবস্থিত স্থল সীমান্ত রুট ব্যবহার করেছেন৷ এথেন্স অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে তুরস্কের সাথে থাকা ৪০ কিলোমিটার সীমান্তে ইস্পাতের তৈরি প্রাচীর নির্মাণ করেছে৷ ২০২১ সালের আগস্ট মাসে সীমান্ত প্রাচীর তৈরির কাজ শেষ হয়৷ তুরস্ক এবং গ্রিস কর্তৃপক্ষ উভয় একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিবাসী পুশব্যাকের অভিযোগ করে থাকে৷ যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একাধিকবার দুই দেশের অনিয়মিত অনুশীলন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস্