
‘ইতালিয়া ওগি’ এবং রোমের ‘লা সাপিয়েঞ্জা
বিশ্ববিদ্যালয়’এক জরিপ চালায়
বছর চারেক আগে। সে জরিপে স্থানীয়দের সুযোগ সুবিধা, জীবনযাত্রা মান, দর্শনার্থীদের মতামত
নিয়ে ইতালির ১০৭টি শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করে ৬৩টি শহরের একটি তালিকা করে। এই তালিকায়
প্রথম দশটি শহরকে বসবাসের জন্য বিশ্বের সেরা যেকোন শহরের মানে উন্নিত করে।
পারমা: তালিকার এক নম্বরে আছে উত্তর মধ্য
ইতালির বিখ্যাত শহর পারমা। ২০২১ সালের শ্রেষ্ঠ শহরের স্থান দখল করা শহরটি ২০২০ সালে
৩৯তম এবং ২০১৮ সালে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছিল। ১ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষের বসবাস শহরটি
জীবন যাত্রার মান, ব্যবসার সুযোগ, কর্মসংস্থান ও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতালির
সেরা মুকুট পরেছে ২০২১ সালের জন্য।
ত্রেন্তো: তালিকার শীর্ষ দ্বিতীয় স্থানে
আছে উত্তর ইতালির আলপ্স পর্বতমালার অ্যাডিজে উপত্যকায় গড়ে ওঠা শহর ত্রেন্তো। শিক্ষা,
জীবন-যাপনের মান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় শহরটি অনেক বছর ধরে ইতালির তালিকার উপরের দিকে
অবস্থান করছে।
বুলজানো: ইতালির সর্ব উত্তরের শহর বুলজানো
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পরিবেশগত, পর্যটন ও কম অপরাধের শহর হিসেবে বহুদিন ধরে
সুনাম রয়েছে শহরটির। আলপ্স পর্বতমালাবেষ্টিত শহরটি থেকে সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায়
যাতায়াত খুব সহজ।
বলুনিয়া: পৃথিবীর প্রাচীনতম ‘বুলগানা বিশ্ববিদ্যালয়’ এই শহরে অবস্থিত।
উত্তর মধ্য ইতালির শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি, যাতায়াত
ও কর্মসংস্থানের জন্য বলুনিয়া বিখ্যাত। শিল্প কারখানার জন্য শহরটি ইতালির মিলানের
পরেই অবস্থান করে। শহরটিতে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করে।
মিলান: ইতালির অর্থনৈতিক রাজধানী বলা হয়
মিলানকে। শিল্প, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসায় শহরটি অনেকদিন ধরে বিখ্যাত। তবে করোনা
পরিস্থিতিতে উত্তর ইতালির প্রধান শহরটি অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হবার পরও শক্ত অর্থনৈতিক অবস্থার
জন্য সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। মিলানকে বিশ্ব ফ্যাশন ডিজাইনের রাজধানীও বলা
হয়। প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষের বসবাস এই শহরটিতে, ইদানিং অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে আশংকাজনক
হারে। এখানে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করে।
ফ্লোরেন্স: লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, মাইকেল
এন্জেলো, ইতালির মহাকবি দান্তের শহর ফ্লোরেন্স। মধ্য-উত্তর ইতালির শহরেই জন্ম রেনেসাঁ
যুগের। আধুনিক ইতালীয় ভাষার জন্মও এই শহরটিতে। সংস্কৃতি, শিক্ষা, জীবন যাত্রার মান,
শিশুদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, কর্মসংস্থান ও যাতায়াত এবং প্রিয়জনের জন্য শহরটি ৬ষ্ঠ
স্থানে ওঠে এসেছে।
ত্রিয়েশতে: উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিখ্যাত
শহর ত্রিয়েশতেকে ইতালির বিজ্ঞান শহর বলা হয়। সীমান্ত শহরটি অনেক বছর ধরে ইতালির গুরুত্বপূর্ণ
স্থান হিসেবে বিবেচিত। পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক বিকাশ ও বিজ্ঞান গবেষণার
জন্য শহরটি বিখ্যাত। কর্মসংস্থান, উন্নত জীবন ব্যবস্থার জন্য সকলের নজর কাড়ে। ২ লক্ষ
মানুষের বসবাস শহরটির মাথাপিছু গড় আয় ইতালির দ্বিতীয়।
ভেরনা: রোমিও-জুলিয়েটের রোমান্টিক শহর
ভেরনা এবার তালিকায় ৮ম স্থানে নেমে এসেছে। সব সময় ভালো অবস্থানে থাকতো ভেনিস প্রদেশের
শহরটি। উত্তর পূর্ব ইতালির এই শহরটি ব্যবসা বাণিজ্য ও জীবন যাত্রার মান, যোগাযোগ ব্যবস্থা,
শিক্ষা ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পর্দাননে: গত বছরের চ্যাম্পিয়ন পর্দাননে
নেমে গেছে নবম স্থানে। গবেষণা, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও পরিবেশগত কারণে শহরটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। জীবন যাত্রার মান, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শহর এটি।
নিরাপদ শহর হিসেবে পর্দাননের স্থান সবচেয়ে উপরে। ইতালির উত্তর পূর্ব অঞ্চলের ছোট শহরটিতে
হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করে।
মনজা ও ব্রায়ানজা: উত্তর ইতালির লুম্বার্দী
প্রদেশের সুন্দর শহর মনজা ও ব্রায়ানজা। কর্মসংস্থান, জীবন যাত্রার মান, যোগাযোগ ব্যবস্থা
ও অবকাঠামো উন্নয়নে শরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইতালিতে।
তালিকার রেংকিংয়ে দেখা যায়, উত্তর ইতালির শহরগুলো এককভাবে এগিয়ে রয়েছে বরাবরের মতো। হতাশাজনক বিষয় হলো, মধ্য ইতালি থেকে শুরু করে দক্ষিণের একটি শহরও তালিকায় উপরের দিকে নেই। তবে ইতালির প্রায় দুই লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য প্রায় সত্তর থেকে পঁচাত্তর হাজার প্রবাসী বসবাস করে তালিকার এই শীর্ষ দশটি শহরে।
তথ্যসূত্র: অনলাইন