টিউলিপকে নিয়ে আবারো সানডে টাইমসের রিপোর্ট
বরখাস্তের দাবি বৃটিশ বিরোধী দলীয় নেতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:৪২

বৃটেনে টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে বির্তক যেনো থামছেই না। টিউলিপের ফ্ল্যাট নিয়ে আবারো প্রতিবেদন ছেপেছে বৃটেনের দ্য সানডে টাইমস্।
দৈনিকটি তাদের রিপোর্টে বলছে, লন্ডনের হ্যামস্টিড এলাকায় কয়েক বছর ব্যবহার করা টিউলিপের ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিলো অফসোর কোম্পানির নামে।করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত ওই কোম্পানির নাম পেডরক ভেঞ্চারস। এই কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের দুজন ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোম্পানিটি ২০০০ সালে ২ লাখ ৪৩ হাজার পাউন্ডে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলো। টিউলিপ সিদ্দিক ইতিমধ্যে বলেছেন, এই ফ্ল্যাটটি তাঁর বোন আজমিনার নামে।
অর্থ দেশে রাখলে বেশি হারে কর দিতে হয় বিধায়, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা কর ফাঁকি দিতে বিভিন্ন অফশোর কোম্পানি খুলে, তাতে বিনিয়োগ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পেডরক ভেঞ্চারস প্রতিষ্ঠানটির মালিক দুজন। তাঁরা হলেন নাসিম আলী ও মাসুদ আলী। দুজনই বাংলাদেশি। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নাসিম ও মাসুদের বাবা মঈন গণি, টিউলিপের মা শেখ রেহানার ঘনিষ্ট ছিলেন।
এসব বিষয়ে কথা, পেডরক ভেঞ্চারের দুই মালিকের কারো সাথে কথা বলতে পারেনি দ্য সানডে টাইমস। টিউলিপ সিদ্দিক ইতিমধ্যে বলেছেন, এই ফ্ল্যাটটি তাঁর বোন আজমিনার নামে। কিন্তু আজমিনা সিদ্দিকও এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, আওয়ামী লীগ এমপিকে নিয়ে বিনা মূল্যে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখেছেন টিউলিপ। ২০১৯ বিশ্বকাপের দুটি ক্রিকেট ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে দেখেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। দুপুরের খাবারসহ প্রতিটি ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল ৩৫৮ দশমিক ৮০ পাউন্ড। এনিয়েও প্রতিবেদন ছেপেছে, যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
দুর্নীতির ক্রমাগত এমন অভিযোগ আসায়, টিউলিপের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন, বৃটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান ক্যামি বেডনক। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদ্দেশ্য বেডনক বলেন, টিউলিপকে বরখাস্তের সময় এসেছে।
ব্রিটেনের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবার যেসব সম্পত্তি পেয়েছেন ও ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ড. ইউনূস বলেছেন, টিউলিপের লন্ডনের সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে যদি প্রমাণ হয়, যে তিনি সরাসরি ডাকাতি'র সুবিধাভোগী, তাহলে সম্পত্তিগুলো ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।