
পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনার ভাগনি যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
ওই পদত্যাগপত্রে টিউলিপ লিখেছেন, তিনি কোনো
দোষ করিনি। তবে তিনি মনে করেন পদে থাকলে হয়তো সরকারের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে।
টিউলিপের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে এবং বাংলাদেশে
দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। একদিকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে ব্রিটেনে
তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশের একমাত্র
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগে
বাংলাদেশে তদন্ত শুরু হয়েছে টিউলিপের বিরুদ্ধে।
লন্ডনে হাসিনা ঘনিষ্ঠের কাছ থেকে উপহার
নেওয়া ছাড়াও; সাবেক এক বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের দুটি
টিকিট নিয়েছিলেন টিউলিপ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যান্য আরও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।
এসবের মধ্যে দেশটির বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি টিউলিপকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছিল।
তারা বলছিল, টিউলিপের ওপর ব্রিটেনের দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু
তারই নামই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছে। এতে তিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনের নৈতিকতা হারিয়েছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড.
মুহাম্মদ ইউনূস টিউলিপকে নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো
সত্য হলে, টিউলিপের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
টিউলিপ সিদ্দিকের দায়িত্ব ছিল যুক্তরাজ্যের
অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া। অথচ তিনি নিজেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে গেছেন,
এমন অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন বেশ চাপে থাকার পর এবার পদ ছাড়লেন তিনি।
তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর – ১৪.০১.২০২৫