
ইইউ সীমান্ত সংস্থা (ফ্রন্টেক্স) জানিয়েছে,
২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে অনিয়মিত পথে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীর
সংখ্যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অভিবাসীদের ব্যবহৃত কিছু রুট
পুলিশের নজরদারির আওতায় এসেছে।
ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থার
তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ইইউতে অনিয়মিত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা কোভিড মহামারি সময়ের
স্তরে ফিরে এসেছে।
ফ্রন্টেক্স এর প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ
করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, “২০২৪ সালে ইইউ
জুড়ে অনিয়মিত সীমান্ত অতিক্রম ৩৮ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন।”
সংস্থাটি বলছে, গত বছর অনিয়মিত অভিবাসী
আগমন সবচেয়ে বেশি কমেছে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় এবং পশ্চিম বলকান রুটে৷
ইইউ সীমান্ত সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, মানবপাচারকারী
চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে তিউনিশিয়া এবং লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির
কারণেই ইতালিমুখী অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমশ কমেছে৷
ক্রমাগত অভিবাসন চাপ সত্ত্বেও মানবপাচার
নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ইইউ এবং তার অংশীদারদের শক্তিশালী সহযোগিতা ইইউর বহিঃসীমান্তে
অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা
হয়েছে।
ফ্রন্টেক্সের মতে, “তিউনিশিয়া এবং
লিবিয়া থেকে প্রস্থান হ্রাসের কারণে মধ্য ভূমধ্যসাগর রুটে অনিয়মিত প্রবেশের
হার ৫৯ শতাংশ কমেছে।”
২০২৪ সালে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর হয়ে প্রায়
৬৭ হাজার মানুষের পারাপার হয়েছে।পূর্ব ভূমধ্যসাগর রুটের পর সকল অভিবাসন রুটের মধ্যে
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ইইউতে আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবহৃত অন্যান্য
রুটগুলোতে অনিয়মিত পারাপারের মারাত্মক বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ অভিবাসনের
ঘটনা ঘটেছে স্পেনে।
ভূমধ্যসাগরে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ফলে
আরও বেশি সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে বিপজ্জনক
যাত্রার চেষ্টা করছেন।
স্পেনে অভিবাসীদের আগমনের সংখ্যা ২০২৩ সালের চেয়ে
১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়া থেকে অভিবাসীদের স্রোত বাড়ায় মূলত
এই হার বেড়েছে।
ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ইইউর পূর্ব স্থল
সীমান্তে বিশেষ করে পোল্যান্ড এবং বেলারুশের মধ্যে অভিবাসীর সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্তবর্তী
ইইউ সদস্য দেশগুলো প্রতিবেশী মস্কো এবং তার মিত্র মিনস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে
তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে হাজার হাজার অভিবাসীকে
তাদের সীমান্ত পাচার করে আসছে।
ইউএনএইচসিআর অনুসারে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইউরোপীয় উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে কমপক্ষে দুই হাজার ৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন৷
তবে এই সংখ্যাটি অনেক বেশি বলে ধারণা করছে এনজিও ও অভিবাসন সংস্থাগুলো৷
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্র্যান্টস – ১৫.০১.২০২৫