স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাওয়া সিরীয়দের আর্থিক সহায়তা জার্মানির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৩০

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিরীয় আশ্রয় নিয়েছিলেন জার্মানিতে৷ বাশার আল-আসাদের পতনের পর জার্মানিতে অবস্থারনত সিরীয় আশ্রয়প্রার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে৷
আর মাত্র এক মাস জার্মানির সরকার পরিচালনার
দায়িত্বে আছেন ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন জোট৷ আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে
দেশটির জাতীয় নির্বাচন৷ দায়িত্বে থাকার শেষ মুহূর্তে সিরীয়দের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে
নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ জার্মানির ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি
(বিএএমএফ) জানায়, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত যেতে চাওয়া সিরীয়দেরকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া
হবে৷
প্রত্যাবাসন বিষয়ে বিএএমএফ-এর কর্মসূচিতে
গত ১৩ জানুয়ারি সিরিয়াকে যুক্ত করা হয়েছে৷ জার্মান সরকারের এই কর্মসূচিটি মূলত যেই
আশ্রয়প্রার্থীরা নিজ দেশে ফেরত যেতে চায় তাদেরকে সহযোগিতা করে থাকে৷ এই কর্মসূচিতে
সিরিয়াকে যুক্ত করে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত যেতে চাওয়া ব্যক্তিদের যাতায়াত
ও অন্যান্য খরচ বাবদ ১৭শ ইউরো পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রদান করা হবে৷
জার্মানির ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি কেএনএ-এর
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় পরিবার প্রতি চার হাজার ইউরো পর্যন্ত
অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করা হতে পারে৷ এমনকি সিরিয়াতে পৌঁছানোর পর স্বাস্থ্যসেবার
জন্যও প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে৷ এরজন্য দেশে ফেরত যাওয়ার পর প্রথম তিন মাস পর্যন্ত
প্রতিমাসে দুই হাজার ইউরো প্রদান করা হবে৷
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, জার্মানিতে
প্রায় নয় লাখ ৭৫ হাজার সিরীয় নিবন্ধিত রয়েছেন৷ তাদের অধিকাংশই শরণার্থী কিংবা বিশেষ
সুরক্ষা সুবিধার আওতায় দেশটিতে বসবাস করছেন৷
এরমধ্যে ছয় লাখ ৭ হাজার সিরীয় সীমিত সুবিধা
নিয়ে জার্মানিতে অবস্থানের অনুমতি পেয়েছেন৷ তিন লাখ ৪০ হাজার ব্যক্তি শরণার্থী কিংবা
বিশেষ সুরক্ষার আওতায় দেশটিতে বাস করছেন৷ আর দুই লাখ ৬৬ হাজার সিরীয় সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশন
সুবিধার আওতায় দেশটিতে বাস করছেন৷
এদিকে বাশার আল-আসাদের পতনের পর গত ডিসেম্বরে
নতুন করে সিরীয়দের আশ্রয় আবেদন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জার্মান সরকার৷ এমন পরিস্থিতিতে
দেশে ফেরত যাওয়ার বিষয়ে কী ভাবছে তা জানতে জার্মানির বন শহরে বসবাসরত কিছু সিরীয়
নাগরিকের সাথে কথা বলেছে ইনফোমাইগ্রেন্টস৷
তাদের বেশিরভাগই নিজের দেশকে আবার দেখতে
চান এবং সিরিয়াতে তাদের পরিবারের যারা আছেন তাদের কাছে যেতে চান বলে জানালেন৷ কেউ কেউ
আবার জার্মানিতে নতুন করে জীবন গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছেন৷ আর কোনো কেনো সিরীয়
দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি৷ তারা বরং আরো কিছু সময় পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণ করতে চান৷
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা
ইউএনএইচসিআরের তথ্য বলছে, বাশার আল-আসাদের পতনের পর গত ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে প্রায়
দুই লাখ সিরীয় দেশে ফেরত গেছেন৷ তাছাড়া, ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে
এক লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন সিরীয় দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্র্যান্ট – ২১.০১.২০২৫