Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

হাঙ্গেরিতে যেতে নতুন নিয়ম, উদ্বিগ্ন বাংলাদেশিরা!

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:১৮

হাঙ্গেরিতে যেতে নতুন নিয়ম, উদ্বিগ্ন বাংলাদেশিরা!

২০২৫ সালের জন্য ইউরোপের বাইরের দেশগুলো থেকে কর্মী আনার কোটার সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে হাঙ্গেরি সরকার৷ বড়দিনের আগে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনও জানায়নি দেশটি৷ এদিকে এমন খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন চাকরির ভিসা নিয়ে হাঙ্গেরিতে যেতে আগ্রাহী বাংলাদেশের কর্মীরা৷

জানা গেছে, বিদেশ থেকে কর্মী আনার বিষয়ে নতুন নিয়ম জারি করেছে হাঙ্গেরি সরকার৷ এ বিষয়ে বড়দিনের আগে নতুন এক গেজেট প্রকাশ করে সরকার৷ সেই গেজেটে ২০২৫ সালে বিদেশি কর্মীর কোটার সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনার কথা বলা হয়৷  

ভিক্টর অরবান সরকারের প্রকাশিত নতুন গেজেটে ইউরোপের বাইরের দেশ অর্থাৎ তৃতীয় দেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে দুইটি পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ এর একটি হলো গেস্ট ওয়ার্কার বা বিদেশ থেকে আনা কর্মী সংক্রান্ত বিধি আর অপরটি এমপ্লয়মেন্ট বেইজড রেসিডেন্স পার্মিট বা কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত বিধি৷

তৃতীয় দেশ থেকে অর্থাৎ ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে কর্মী আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের শেষ দিকে গেস্ট ওয়ার্কার রেসিডেন্স পারমিট নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছিল হাঙ্গেরি সরকার৷ ওই কর্মসূচির আওতায় ১০টি দেশ থেকে শ্রমিকদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়৷ দেশগুলো হলো, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, জর্জিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন্স, ভেনেজুয়েলা এবং ভিয়েতনাম৷ তবে এই তালিকায় নাম ছিল না বাংলাদেশের৷

হাঙ্গেরি সরকারের নতুন গেজেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুইটি দেশ থেকে গেস্ট ওয়ার্কার কর্মসূচির আওতায় কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে হাঙ্গেরির প্রতিষ্ঠানগুলো৷ দেশ দুইটি হলো জর্জিয়া এবং আর্মেনিয়া৷ অর্থাৎ, ২০২৫ সালে শুধু ওই দুইটি দেশ থেকেই গেস্ট ওয়ার্কার কর্মসূচির আওতায় হাঙ্গেরিতে কাজ করার সুযোগ পাবেন কর্মীরা৷  

হাঙ্গেরি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হলো এমপ্লয়মেন্ট বেইজড রেসিডেন্স পার্মিট৷ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাঙ্গেরিতে কাজ করার সুযোগ পান বিদেশিরা৷ হাঙ্গেরি সরকারের নতুন গেজেটে এই কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি৷

তবে সরকারের গেজেট বলছে, দুই কর্মসূচি মিলিয়ে ২০২৫ সালে ৩৫ হাজার কর্মীকে হাঙ্গেরিতে কাজের সুযোগ প্রদান করা হবে৷ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার৷ অর্থাৎ, ২০২৫ সালে কর্মীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনছে হাঙ্গেরি সরকার৷ গেজেট বিষয়ক ঘোষণায় হাঙ্গেরির নাগরিকদের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যের কথা বলা হয়৷ 

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান বলেন, হাঙ্গেরি হাঙ্গেরিয়ানদের জন্য৷ আমি চাই না হাঙ্গেরি গেস্ট ওয়ার্কারদের দেশ হয়ে উঠুক৷ একারণেই আমরা অভিবাসীদের আসতে দিই না৷ আর গেস্ট ওয়ার্কার হিসেবে আমাদের যতটুকু দরকার৷’’

তিনি বলেন, ‘‘বিশাল সংখ্যার গেস্ট ওয়ার্কারদের মাধ্যমে হাঙ্গেরির অর্থনীতির শ্রম সংকটের সমস্যা সমাধান করা খুব সহজ৷ কিন্তু এই এই পরামর্শ দিই না৷ চলুন সর্বশেষ হাঙ্গেরিয়ান খুঁজে বের করি, তাকে কাজ দিই এবং মজুরি দিই৷ চলুন তার কাজের স্বীকৃতি দিই৷’

গেস্ট ওয়ার্কার কোটার মতো এমপ্লয়মেন্ট বেইজড রেসিডেন্স পার্মিট প্রদানের বিষয়টিও নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য সীমিত করে দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি৷ তবে ধারণা করা হচ্ছে, হাঙ্গেরি সরকার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারে৷  

হাঙ্গেরি সরকারের এমন ঘোষণার পর বাংলাদেশের যেসব কর্মী চাকরি নিয়ে দেশটিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাঙ্গেরিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়তেও দেখা যায়৷

এদিকে আরেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভিএফএস তাদের ওয়াবসাইটে এই বিষয়ক ঘোষণায় জানায়, হাঙ্গেরি সরকারের নতুন গেজেটের প্রক্ষিতে দেশটিতে যেতে প্রয়োজনীয় কাজের ভিসার আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হচ্ছে না৷ উল্লেখ্য, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভিএফএস বিশ্বের অনেক দেশের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সহযোগিতা করে থাকে৷  

এ বিষয়ে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন হাঙ্গেরি সরকারের নতুন গেজেটে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শ্রম বাজারের উপরও প্রভাব পড়তে পারে৷ হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশের স্থায়ী কোনো দূতাবাস না থাকায় ভিয়েনায় অবস্থিত দূতাবাসই দেশটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে৷

জানা গেছে, বর্তমানে ভিয়েনা অবস্থিত বাংলাদেশ দূতবাসে কোনো রাষ্ট্রদূত নেই৷ তবে খুব দ্রুতই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একজন রাষ্ট্রদূত পাঠানো হবে৷ দূতাবাস সূত্র জানায়, তারা হাঙ্গেরি সরকারের নতুন গেজেটের বিষয়টি উপর নজর রাখছেন৷  

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্র্যান্টস – ২৩.০১.২০২৫

Logo