২০২৪ সালে কোন দেশটিতে গেছেন সবচেয়ে বেশী টুরিস্ট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৫৪

২০২৪ সালে সারাবিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি টুরিস্ট ঘুরে বেড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকরা সম্মিলিতভাবে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন, অর্থাৎ প্রতি পর্যটক গড়ে এক হাজার ডলারের বেশি খরচ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যয়ের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মহাদেশীয়
ভিত্তিতে, ইউরোপ সর্বাধিক পর্যটক আকর্ষণ করেছে, যেখানে ৭৪৭ মিলিয়ন মানুষ ভ্রমণ করেছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও ইউরোপের পর্যটন খাতের এই উত্থান ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত
হচ্ছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৩১৬ মিলিয়ন, আমেরিকায় ২১৩ মিলিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যে
৯৫ মিলিয়ন এবং আফ্রিকায় ৭৪ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।
দেশভিত্তিক
পরিসংখ্যানে, ফ্রান্স ১০০ মিলিয়ন পর্যটক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, এরপর স্পেন ৯৮ মিলিয়ন
পর্যটক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। ফ্রান্সের জাতীয় পর্যটন সংস্থা অ্যাটাউট জানিয়েছে,
২০২৪ সালটি ফরাসি পর্যটনের জন্য একটি ব্যতিক্রমী বছর ছিল, যা ২০২৫ সালেও অব্যাহত থাকার
আশা করা হচ্ছে।
কিন্তু
কেন এত বিপুল পরিমান টুরিস্ট প্রতিবছর বেড়াতে যায় ফ্রান্সে? বোলিবার্ড থেকে প্যারিসের
সমুদ্র তীরবর্তী কোতে দি আজুর রিসোর্ট পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত
দেশ হিসেবে পরিচিত এই ফ্রান্স। রূপকথার গল্পের সুরক্ষিত দুর্গ, সুশোভিত ও মনোরম গীর্জা
এবং ছবির মতো গ্রাম পর্যটকদের সহজেই ফ্রান্সে ভ্রমণ করতে উৎসাহিত করে।
ফ্রান্সে
ভ্রমণের জন্য সেরা ৯ জায়গা সম্পর্কে আসুন জেনে নেয়া যাক-
১.
আইফেল টাওয়ার
প্যারিস
শহরের নাম শুনলে আইফেল টাওয়ারের একটি ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ১৮৮৯ সালে এটি নির্মিত
হয়। আইফেল টাওয়ার ৩২০ মিটার উঁচু একটি সুরক্ষিত ভবন। একে দর্শনার্থীরা আইরন লেডি নামে
চিনে থাকে।
২.
ল্যুভ মিউজিয়াম
আইফেল
টাওয়ারের পর ফ্রান্সের আরেকটি জনপ্রিয় এবং সম্ভ্রান্ত মিউজিয়াম হলো ল্যুভর মিউজিয়াম।
এই মিউজিয়ামে লিউনার্দো দ্য ভিঞ্চির অঙ্কন করা মোনা লিসা চিত্রলিপি এবং প্রথম শতকে
স্থাপিত ভেনাস দে মিলো ভাস্কর্য সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া বহু পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী জিনিস
এখানে রাখা আছে।
৩.
ভার্সাই প্যালেস
১৯১৯
সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ভার্সাই প্যালেসে যে মিত্রপক্ষ শত্রুপক্ষের সঙ্গে যে সন্ধি
করে তা ইতিহাসে ভার্সাই সন্ধি নামে সমধিক পরিচিত। এই প্যালেসে বসেই ফরাসি রাজারা দীর্ঘ
দিন তাদের স্বৈরাচারী শাসন অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন। এটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন একটি জায়গা।
৪.
কোট দি আজুর
ফ্রান্সের
উপকূলবর্তী শহর এটি। সেন্ট টোপেজ থেকে ইতালি সীমান্ত মেনটন পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। গ্রীষ্ণকালে
পর্যটকরা এখানে বেশি ভ্রমণে আসেন। সমুদ্রমন্থনপ্রিয় পর্যটকদের এখানে বেশি দেখা যায়।
৫.
মন্ট সেন্ট মাইকেল
মন্ট
সেন্ট মাইকেল ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত একটি পিরামিড যা সমুদ্রের ওপর অবস্থিত। এটি পর্যটকদের
কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় জায়গা। ইউরোপের মধ্যযুগের স্থাপত্যে পিরামিডটি নির্মাণ করা হবে।
৬.
লইর উপত্যকা
ইউনেস্কোর
তালিকাভুক্ত একটি জায়গা লইর উপত্যকা। একে ফ্রান্সের বাগান হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
এটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন একটি উপত্যকা। পর্যটকদের কাছে এটি অত্যন্ত পছন্দের জায়গা।
৭.
ক্যাথেড্রাল নটর ডেম দে চার্টার্স
ইউনেস্কোর
তালিকাভুক্ত আরেকটি জায়গা হচ্ছে ক্যাথেড্রাল নটর ডেম দে চার্টার্স। এটি একটি সুশোভিত
গীর্জা। মার্বেল পাথর দিয়ে সাজানো এই গীর্জা ত্রয়োদশ শতকে নির্মাণ করা হয়। এর আয়তন
২ হাজার ৫০০ বর্গ মিটার।
৮.
ব্রিটানি
ব্রিটানি
ফ্রান্সের ইতিহাসসমৃদ্ধ একটি শহর। এখানে রয়েছে সেন্ট মালো, ন্যানতেস এবং কনকারনিয়াউ।
ন্যানতেস ইউরোপের মধ্যযুগে নির্মিত হয় এবং কনকারনিয়াউ চতুর্দশ শতকে নির্মিত হয়।
৯.
অর্লিনস
অর্লিনস
শহরটি ইতিহাসসমৃদ্ধ। ১৪২৯ সালে ব্রিটিশদের ফরাসি বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হওয়ার কারণে
শহরটি ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে অনেক পছন্দের। এই শহরে আরেকটি আকর্ষণীয় জায়গা হলো লইরে
ভ্যালি। এখানে ব্রিটিশরা চার্টারস ও বোর্জেসের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলো।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট