কোন কোন দেশগুলোতে বিনিয়োগ করলে ভিসা পাবে বাংলাদেশীরা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৪৮

বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিবাসনের সুযোগ দেয়। নিচে উল্লেখিত দেশগুলোতে বিনিয়োগ ভিসার শর্তাবলী, স্থায়ী বসবাসের নিয়মাবলী এবং বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য দেয়া হলো:
১. মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়ার 'Malaysia My Second Home' (MM2H) প্রোগ্রামের
আওতায় আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৫ লাখ রিঙ্গিত (প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা)
লিকুইড অ্যাসেট এবং মাসিক অন্তত ৪০ হাজার রিঙ্গিত (প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) আয়ের
প্রমাণ দিতে হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১,৪৬১ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায়
অভিবাসন করেছেন।
২. অস্ট্রেলিয়া:
অস্ট্রেলিয়ার 'Business Innovation and
Investment Program' (BIIP) এর আওতায় বিভিন্ন স্ট্রিমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ইনভেস্টর
স্ট্রিমে ২৫ লাখ থেকে ১.৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৮ কোটি ৩৬ লাখ থেকে ১১০
কোটি ২৮ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করতে হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৩১৭
জন বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করেছেন।
৩. যুক্তরাজ্য:
যুক্তরাজ্যে 'Tier 1 Investor Visa' এবং 'Tier 1
Entrepreneur Visa' এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। ইনভেস্টর
ভিসার জন্য কমপক্ষে ২০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা) এবং উদ্যোক্তা ভিসার
জন্য ২ লাখ পাউন্ড (প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করতে হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত,
ইনভেস্টর ভিসায় ৩ জন এবং উদ্যোক্তা ভিসায় ৩ জন বাংলাদেশি আবেদন করেছেন।
৪. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'EB-5 Investor Visa' প্রোগ্রামের
আওতায় আবেদনকারীদের ৮ লাখ থেকে ১০.৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ থেকে
১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করতে হয়। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান
সৃষ্টি করতে হবে।
৫. কানাডা:
কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে 'Provincial Nominee
Program' (PNP) এর আওতায় বিনিয়োগকারীদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের
পরিমাণ এবং শর্তাবলী প্রদেশভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণত, কমপক্ষে ২ লাখ কানাডিয়ান ডলার
(প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা) বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী, বিদেশে বড় অঙ্কের অর্থ
বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি প্রয়োজন। তবে, এত বড় পরিমাণ অর্থ বৈধভাবে
বিদেশে স্থানান্তর করা কঠিন। ফলে, অনেকেই অবৈধ উপায়ে অর্থ স্থানান্তর করে থাকেন, যা
আইনত দণ্ডনীয়।
বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের
মাধ্যমে অভিবাসনের সুযোগ রয়েছে। তবে, বিনিয়োগের শর্তাবলী, স্থায়ী বসবাসের নিয়মাবলী
এবং বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিয়ে
এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মাইগ্রেশন
কনসার্ন রিপোর্ট