প্রবাসীর স্বর্গ বেলজিয়ামে ২০২৫ সালে কী পরিবর্তন আসছে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৫, ১২:৫২

নানান বিপর্যয়ে পার করা ২০২৪ সাল ছিল ইউরোপের জন্য অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার বছর। বেলজিয়ামের নির্বাচন দেশটিকে এমন এক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে যেখানে কার্যকর সরকার গঠিত না হওয়ায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৫ সাল ইউরোপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে চলেছে, কারণ মহাদেশটি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে। এই প্রেক্ষাপটে, বেলজিয়ামের অভিবাসন পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তা নিয়ে কথা বলেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ পাস্কাল ডেব্রুইন।
ইউরোপের অভিবাসন নীতি: কী পরিবর্তন আসছে?
ডেব্রুইনের মতে, ২০২৫ সালে ইউরোপের মূল লক্ষ্য হবে ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি বাস্তবায়ন করা। এটি একদিকে ইউরোপের বাহ্যিক সীমান্তে কার্যকর হবে এবং অন্যদিকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরেও নতুন নীতিমালা চালু হবে।
তবে এই চুক্তির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিবাসন সংক্রান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা কমানো । তিনি উল্লেখ করেন, আশ্রয় প্রক্রিয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থা কমিয়ে আনা এবং সীমান্তে আটক কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এমনকি জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন নীতি রাজনৈতিকভাবে বিক্রি করা সহজ হলেও তা কার্যকর করা কঠিন।
পরিস্থিতির উন্নতি নাকি অবনতি?
ডেব্রুইন মনে করেন যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি কেবলমাত্র সুরক্ষা কমানোর বিষয়ে নয়, এটি শরণার্থীদের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগজনক।"
তিনি উল্লেখ করেন যে কিছু রাষ্ট্র "জরুরি পরিস্থিতি" ঘোষণা করে আইন লঙ্ঘন করছে এবং শরণার্থীদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বেলারুশ ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সংকটের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বেলারুশ ইচ্ছাকৃতভাবে পোল্যান্ড সীমান্তে শরণার্থীদের পাঠিয়েছিল।
এছাড়াও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করছে, যেখানে "নিরাপদ তৃতীয় দেশ" নামে পরিচিত দেশগুলোর (যেমন তিউনিসিয়া) ওপর অভিবাসন ঠেকানোর দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে।
বেলজিয়ামে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
বেলজিয়ামে নতুন আরিজোনা জোট সরকার অভিবাসন নীতিতে কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কিছু পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগজনক।
বর্তমানে, বেলজিয়ামের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শরণার্থী আশ্রয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটি বেলজিয়ামকে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনি শাস্তিপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় নিয়ে গেছে, কারণ দেশটি আশ্রয় অধিকার লঙ্ঘন করছে।
এছাড়াও, কিছু পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে যেখানে পারিবারিক পুনর্মিলন নীতির জন্য আয় সীমা বৃদ্ধি এবং সাবসিডিয়ারি সুরক্ষার অধিকার খর্ব করার কথা বলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ শরণার্থীদের জন্য মানবিক সংকট তৈরি করবে এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক একীকরণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
মানবিক ও সামাজিক প্রভাব
এই নীতিগুলোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে শরণার্থীদের ওপর, তবে তা পুরো সমাজকেও প্রভাবিত করবে।
যদিবা কেউ সুরক্ষা পায়, কিন্তু তারা দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে—যেমন রাস্তায় অনাহারে থাকা বা পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করা—তাহলে এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সমাজের জন্যও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
কোন ক্ষেত্রে উন্নতি প্রয়োজন?
ডেব্রুইন মনে করেন যে বেলজিয়ামের আশ্রয় প্রক্রিয়া অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে পরিচালিত হওয়া উচিত। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতা। এই নীতির ফলে অভিবাসীরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে এবং অভিবাসীরা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ করতে নিরুৎসাহিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বেলজিয়ামের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে নতুন করদাতাদের প্রয়োজন, কিন্তু রাজনীতিতে "আমরা বনাম তারা" নীতির কারণে অভিবাসন নীতি কঠোর হয়ে পড়ছে।
২০২৫ সালে বেলজিয়ামের অভিবাসন নীতি কঠোর হতে পারে, যা মানবিক ও সামাজিকভাবে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করবে। আশ্রয় অধিকার খর্ব, পারিবারিক পুনর্মিলনে বাধা এবং সীমান্তে কঠোর নীতি বাস্তবায়নের ফলে শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। এতে শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং পুরো সমাজও দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য দেবে।
তথ্যসূত্র: দি ব্রাসেলস টাইমস