
সুইজারল্যান্ডে বসবাস করে প্রায় ৪ লাখ মুসলমান। রমজান মাসকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেন এ দেশের মুসলমানরা। রমজানের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক গুরুত্ব অটুট রাখেন তারা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে সুইস সমাজের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেন।
এ
দেশে গ্রীষ্মকালে প্রায় ১৬ ঘণ্টারও বেশি রোজা রাখতে হয়, যা রোজাদারদের জন্য কিছুটা
কষ্টকর। রমজান মাসে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা তাদের দৈনন্দিন রুটিন এমনভাবে সাজিয়ে নেন
যাতে তারা কাজ ও ধর্মীয় দায়িত্ব উভয়ই পালন করতে পারেন।
জুরিখ,
জেনেভা ও ব্রাসেলস শহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলমান বসবাস করেন। এসব শহরের মসজিদ ও ইসলামিক
সেন্টারগুলো ইফতারের জন্য বিশেষ আয়োজন করে। রোজাদাররা বাড়িতে বা মসজিদে একত্র হয়ে ইফতার
করেন। ইফতারির খাবার সাধারণত তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসারে তৈরি করা হয়।
সেগুলোর মধ্যে তুর্কি, বসনিয়ান, আরব বা দক্ষিণ এশীয় খাবার অন্যতম।
জেনেভা
মসজিদসহ বেশ কিছু মসজিদে সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন করা হয়, যা মুসলমানদের মধ্যে সামাজিক
বন্ধন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। সুইজারল্যান্ডে প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের
ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম থাকলেও মুসলিম সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় উৎসব এমনভাবে পালন করেন,
যাতে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় থাকে।
রমজানে
অনেক মুসলমান তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান। তবে শব্দ নিয়ন্ত্রণ আইন ও স্থান
সংকটের কারণে সব মসজিদ বড় জামাতের আয়োজন করতে পারে না। কয়েকটি পরিবার মিলে হল ভাড়া
করেও তারাবির নামাজের ব্যবস্থা করে।
বর্তমানে
দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ৪ লাখ। এর মধ্যে ৮৮.৩ শতাংশ প্রবাসী মুসলিম। প্রবাসীদের ৬০
শতাংশ সাবেক যুগোস্লাভিয়ার নাগরিক (বিশেষ করে বলকান ও কসোভর নাগরিক), ৬ শতাংশ তুরস্ক ও ৫ শতাংশ আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আগত। মুসলমানদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার স্থানীয় অধিবাসী।
সুইজারল্যান্ডে
প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয় ১৯৬৩ সালে। ১৯৭২ সালে সুইজারল্যান্ডে ইসলামি সংগঠন প্রতিষ্ঠা
লাভ করে। এই সংগঠনের একটি বিধিমালা তৈরি করা হয়, যা পরবর্তী সময় সুইস সরকারের অনুমোদন
লাভ করে। এই সংগঠনের কমিটি সুইজারল্যান্ডে মসজিদ ও ইসলামি সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন
পায়।
সৌদি
আরবের বাদশাহ কিং ফয়সাল ইবনে আবদুল আজিজ আস-সৌদ ১৯৭৩ সালে সুইজারল্যান্ড সফর করেন।
তিনি ইসলামি সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেন্টারের মসজিদটি বেশ বড় এবং এখানে
কয়েকশ মুসলমানের একত্রে নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা আছে। সেন্টারে একটি লাইব্রেরি ও একটি
ইসলামি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুসলিম ছেলেমেয়েদের এখানে বিনা খরচে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র:
দৈনিক দেশ রূপান্তর