Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

দিন দিন কঠিন হচ্ছে ইউরোপ যাওয়া

তাহলে নিরাপদ পথ কোনগুলো?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫, ১১:৫৬

দিন দিন কঠিন হচ্ছে ইউরোপ যাওয়া

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশগুলো আশ্রয় আবেদন এবং ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ১১ শতাংশ কমেছে, তবে বাংলাদেশিদের আবেদন সংখ্যা বেড়েছে। যদিও এসব আবেদনের মধ্যে ৯৬ শতাংশই বাতিল হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিন্ন আশ্রয় অভিবাসন নীতি প্রণয়ন করছে, যা ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে। এই নীতিতে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাতদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে। ফলে দিন দিন কঠিন হচ্ছে ইউরোপে যাওয়া। কঠিন সব আইন করে ইউরোপের সরকার অভিবাসীদের ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। 

এর মাঝে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পেতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, কারণ কিছু ইউরোপীয় দেশের ভিসা সেন্টার দিল্লিতে অবস্থিত। যেখানে ভারত বাংলাদেশিদের ভিসা সীমিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি।

তবে বর্তমানে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের ভিসা আবেদন ঢাকায় ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে করা যাচ্ছেদেশগুলো হলো বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রদান করছে। তবে প্রতিটি দেশের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন হতে পারে, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বোপরি, ইউরোপের দেশগুলো আশ্রয় আবেদন এবং ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, যা বাংলাদেশিদের ওপর প্রভাব ফেলছে। তাই ভ্রমণ বা অভিবাসনের পরিকল্পনা করার সময় সর্বশেষ নীতিমালা সম্পর্কে জানা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যেতে চাইলে বৈধ নিরাপদ উপায় অবলম্বন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কয়েকটি পদ্ধতি দেয়া হলো যেমন:-

. শিক্ষার্থী ভিসা (Student Visa)

যদি আপনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপে যেতে চান, তাহলে শিক্ষার্থী ভিসা একটি উত্তম উপায়। সে ক্ষেত্রে আপনাকে যোগ্যতা অনুসারে ইউরোপের যে কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।

              • দরকারি কাগজপত্র : ভর্তি অনুমোদনপত্র (Offer Letter), টিউশন ফি পরিশোধের প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট (আর্থিক সক্ষমতার জন্য), ভাষার দক্ষতার প্রমাণ (IELTS/TOEFL)

              • বিশেষ সুযোগ : কিছু দেশ পড়াশোনা চলাকালে পার্ট-টাইম চাকরির সুযোগ দেয়, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী হওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।

 . কর্মসংস্থান ভিসা (Work Visa)

যদি ইউরোপের কোনো কোম্পানি আপনাকে চাকরির অফার দেয়, তাহলে আপনি কাজের ভিসায় যেতে পারেন।

              যোগ্যতা : নিয়োগকর্তার স্পন্সরশিপ চাকরির চুক্তি থাকতে হবে।

              কঠিন দিক : বেশির ভাগ ইউরোপীয় দেশ দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ দেয়, তাই উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

              ভালো সুযোগ : জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড  সুইডেন বিভিন্ন কাজের জন্য দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছে।

. ব্যবসা বিনিয়োগ ভিসা (Business & Investment Visa)

যদি আপনি ইউরোপে ব্যবসা করতে চান বা বিনিয়োগ করতে পারেন, তাহলে এই ভিসা প্রাপ্তির সম্ভাবনা বেশি।

              শর্ত: নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

              ভালো সুযোগ: পর্তুগাল, মাল্টা, স্পেন গ্রিস বিনিয়োগকারীদের জন্য গোল্ডেন ভিসা সুবিধা দিয়ে থাকে।

. পর্যটক বা শেনজেন ভিসা (Schengen Visa)

শেনজেন ভিসা দিয়ে ইউরোপের ২৬টি দেশে স্বল্প সময়ের জন্য ভ্রমণ করা যায়। তবে এটি দিয়ে স্থায়ীভাবে থাকা সম্ভব নয়। যারা ইউরোপে বৈধ উপায়ে প্রবেশ করে পরবর্তী সুযোগ খুঁজতে চান, তাদের জন্য এটি একটি অপশন।

.  ব্ল কার্ড (EU Blue Card- Skilled Worker Visa)

যদি আপনি উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী হন (যেমন: আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা, গবেষণা), তাহলে ব্লু কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

              • যোগ্যতা: ইউরোপে স্বীকৃত ডিগ্রি উচ্চ বেতনের চাকরির অফার।

              • ভালো সুযোগ: জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ব্লু কার্ড সহজে দেয়।

. পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা (Family Reunion Visa)

যদি আপনার স্বামী/স্ত্রী বা পরিবারের সদস্য ইউরোপের কোনো দেশে বৈধভাবে বসবাস করেন, তাহলে তাদের মাধ্যমে স্পন্সর হয়ে যেতে পারেন।

. রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) :

ইউরোপের দেশে গিয়ে জীবনের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করা যায়। তবে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উপায় বলে মনে করা হয়। কারণ বর্তমান সময়ে আশ্রয় আবেদনকারীদের বেশির ভাগ আবেদন বাতিল হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন দ্রুত রিফিউজিদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যদি আপনি আশ্রয় চাওয়ার মতো বাস্তব কারণ না দেখাতে পারেন, তাহলে এটি ব্যর্থ হতে পারে।

সতর্কতা :

দালাল বা অবৈধ পথে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না, কারণ এটি বিপজ্জনক এবং ধরা পড়লে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। ইউরোপের আইন অভিবাসন নীতি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে পরিকল্পনা করুন। প্রতিটি দেশের দূতাবাস বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভিসার জন্য আবেদন করুন।

সর্বোত্তম উপায় :

শিক্ষা কর্মসংস্থান ভিসার মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশ করা সবচেয়ে নিরাপদ সফল কৌশল।

মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট।

Logo