Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪২ হাজার আশ্রয়প্রার্থী আপিলের অপেক্ষায়

হোটেলে রাখা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার জনকে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৫, ১৩:২৭

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪২ হাজার আশ্রয়প্রার্থী আপিলের অপেক্ষায়

সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪২ হাজার আশ্রয়প্রার্থী আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষা করছেন, যাদের প্রাথমিক আশ্রয়ের আবেদন হোম অফিস প্রত্যাখ্যান করেছে।

রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, গত দুই বছরে এই সংখ্যা পাঁচ গুণ বেড়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, সরকার আসল সমস্যা সমাধান না করে শুধু এটি এক অংশ থেকে অন্য অংশে সরিয়ে নিচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার অভিবাসীকে এখনো হোটেলগুলোতে রাখা হয়েছে।

হোম অফিস বলেছে, তারা আশ্রয়প্রার্থীদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার হার দ্বিগুণ করেছে এবং আরো আদালতের কার্যদিবস পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে।

সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে এবং আবাসনের উচ্চ ব্যয় কমানোর ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

 যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রত্যাশীদের আপিলের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে

রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, আগের কনজারভেটিভ সরকারের প্রণীত আইন আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বাড়িয়েছে। এই আইনের কারণে প্রকৃত শরণার্থী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ন্যাশনালিটি অ্যান্ড বর্ডার্স অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর, ২০২৪ সালের শেষার্ধে শুধুমাত্র ১০ জনের মধ্যে ৪ জন আফগান নাগরিককে আশ্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে আগে প্রায় সব আফগান আশ্রয়প্রার্থীই অনুমোদন পেতেন।

অনেকে মনে করছেন, যাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তারা আপিলের মাধ্যমে পুনরায় আশ্রয়ের জন্য চেষ্টা করছেন। বর্তমানে আফগানরা যুক্তরাজ্যের হোটেলগুলোতে থাকা সবচেয়ে বড় জাতীয়তা গোষ্ঠী, বিশেষ করে যারা গত দুই বছরে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে এসেছেন।

ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন: রিফিউজি কাউন্সিল

রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন দাবি করেছেন, উন্নত ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। তিনি বলেছেন,

“যদি প্রথমবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তবে প্রকৃত শরণার্থীরা নিরাপত্তা পাবেন এবং যুক্তরাজ্যের সমাজে অবদান রাখতে পারবেন। অন্যদিকে, যাদের থাকার অধিকার নেই, তাদের সম্মানজনকভাবে সরিয়ে দেয়া যাবে।”

 

হোটেল ব্যয়ের চরম বৃদ্ধি

সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, আপিলের অপেক্ষায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বাসস্থানের প্রয়োজন হয় এবং এই সমস্যা সমাধান না হলে হোটেল ব্যয় ২০২৫ সালে ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।

 

সরকারের প্রতিক্রিয়া

সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ”আমরা যে আশ্রয় ব্যবস্থা পেয়েছি, তা কার্যকর ছিল না। তাই আমরা জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছি, যাতে আশ্রয়প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা যায় এবং মামলার জট কমিয়ে ফেলা যায়। ফলে আগামী দুই বছরে করদাতাদের প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে।”

সরকার অভিবাসন ও আশ্রয় আদালতের কার্যদিবস বৃদ্ধি এবং আপিল প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাড়তি তহবিল বরাদ্দ করেছে।

 আশ্রয় আপিলের সংখ্যা বেড়েছে ৭১%

বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে ৪১,৯৮৭টি আশ্রয় আপিল আদালতের বিচারাধীন ছিল, যেখানে ২০২৩ সালের শুরুতে এটি ছিল মাত্র ৭,১৭৩টি।

রিফিউজি কাউন্সিলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে আশ্রয় আপিলের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৭১% বৃদ্ধি পেয়েছে।

Logo