Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

দক্ষ কর্মী ভিসায় গিয়েও যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হাজারো অভিবাসী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ০৮:৪৭

দক্ষ কর্মী ভিসায় গিয়েও যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হাজারো অভিবাসী

দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়া হাজারো অভিবাসী যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন৷ যুক্তরাজ্যের ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জাতীয় নিরীক্ষা অফিসের (এনএও) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, দক্ষ কর্মী হিসেবে ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের আশ্রয় চেয়ে আবেদন করার সংখ্যা শতগুণ বেড়েছে৷ ২০২২ সালে এমন আশ্রয় আবেদন জমা হয়েছিল মাত্র ৫৩টি৷ আর ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসে সেই সংখ্যাটি বেড়ে হয়েছে পাঁচ হাজার ৩শ৷

এনএও বলছে, এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে কোনো ধরনের প্রভাব মূল্যায়ন না করেই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন এনেছে৷

তাদের তথ্যে আরো দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যে দক্ষ কর্মী হিসেবে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে দেশটিতে স্থায়ী হতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে৷ ২০২১ সালে দক্ষ কর্মী ভিসায় দেশটিতে এসেছিলেন ২৫ হাজার মানুষ৷ আর ২০২৪ সালে এসে সংখ্যাটি ৮০ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার৷ সাধারণত দক্ষ কর্মী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে৷

দক্ষ কর্মী ভিসায় আসা ব্যক্তিদের উপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে ৩৬০ শতাংশ৷ যুক্তরাজ্যে ২০২১ সালে দক্ষ কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার ২০০ জন৷ আর ২০২৩ সালে সেটি হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ১০০ জন৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানে না, হাজার হাজার অভিবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা দেশে ফিরে গেছেন নাকি ব্রিটেনে থেকে গেছেন৷ একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিসা ইস্যু করার দিন থেকে চার বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও ২৩ শতাংশ বিদেশি দক্ষ কর্মীর কাছে এখনো বৈধ ভিসা আছে৷ এছাড়া ১৫ শতাংশ বিদেশি দক্ষ কর্মী যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্ট সময় ধরে থাকার অনুমতি নিয়েছেন৷

এনএও জানিয়েছে, অবশিষ্ট ৬২ শতাংশ ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে৷ কিন্তু হোম অফিস জানে না এদের মধ্যে কতজন তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছেন৷

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ২০২০ সালে যুক্তরাজ্য ছেড়ে যাওয়া মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছিল হোম অফিস৷ তারা এর মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চেয়েছিল, ভিসার মেয়াদ শেষে কত সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে গেছেন৷ কিন্তু দক্ষ কর্মী ভিসা প্রবর্তনের পর এই বিশ্লেষণটি আর কখনো করেনি হোম অফিস৷

এনএও প্রধান গ্যারেথ ডেভিস বলেন, দক্ষ কর্মী ভিসা রুটে পরিবর্তনের প্রভাব বোঝা, তাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটিকে উন্নত করা এবং ভিসাধারীরা যাতে ভিসার অপব্যবহার করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তথ্য-উপাত্তের সঠিক ব্যবহারের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত৷

এনএওর কাজ তদারকি প্রতিষ্ঠান পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান স্যার জিওফ্রে ক্লিফটন-ব্রাউন বলেন, ‘‘এটা হতাশার কথা যে, বর্তমানে সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হলে মানুষেরা কী করেন এবং ভিসা রুটে আনা পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট ধারণার যথেষ্ট অভাব রয়েছে৷’’

বিদেশি দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট করতে ২০২০ সালে এই ব্যবস্থা চালু করেছিল যুক্তরাজ্য৷ তারপর থেকে এই ইস্যুতে নানা পরিবর্তন আনা হলেও পুরো প্রক্রিয়াটিকে কখনো মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মনে করে নজরদারি সংস্থা এনএও৷

সামাজিক পরিচর্যা খাতে ঘাটতি মোকাবিলায় ২০২২ সালে পরিচর্যা কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়েছিল৷ কিন্তু দুই বছর পরে এ খাতে ভিসা প্রক্রিয়াকে আবারো কঠোর করা হয়৷ আগের রক্ষণশীল সরকারের নিট অভিবাসন কমানোর অংশ হিসেবে এ খাতে কর্মরতদের পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা স্থগিত করা হয়৷

এনএও বলছে, ভিসা প্রক্রিয়া যখন শিথিল ছিল, তখন এর আওতায় প্রয়োজনের চেয়ে তিন গুণ বেশি ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল৷ পরিসংখ্যান বলছে, ৩ লাখ ৬০ হাজার ভিসা ইস্যুর কথা থাকলেও ভিসা দেয়া হয়েছে ৯ লাখ ৩১ হাজার৷ কিন্তু ২০২২ সাল থেকে এ খাতটিতে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তার প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়নি৷

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মী ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত একটি মূল্যায়ন কমিশন গঠন করেছে৷ চলতি বছরের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে কমিশনকে৷ পর্যবেক্ষক সংস্থা এনএওর সুপারিশ হলো, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা উচিত এবং ভিসার মেয়াদ শেষে দক্ষ কর্মীরা কী করেন, তার একটি মূল্যায়ন চলতি বছরের মধ্যে শেষ করা উচিত৷

রিপোর্ট সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস্ বাংলা




Logo