পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসের জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেবে ইতালি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ১১:০৫

উত্তর ইতালির ট্রেন্তিনো অঞ্চলে পরিত্যক্ত বাড়ি পুনর্নির্মাণ ও বসবাসের জন্য সরকার ১ লাখ ইউরো বা ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে হলে আগ্রহী ব্যক্তিকে অন্তত ১০ বছর ওই এলাকায় বসবাস করতে হবে অথবা দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া দিতে হবে। অন্যথায় অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
পরিকল্পনার লক্ষ্য
পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই অঞ্চলে জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ইতালির ২০২৪ সালের জাতীয় বাজেটের আওতায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো (৩২.৫ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করে সরকার জনশূন্য হয়ে পড়া গ্রামগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৩টি শহরকে বেছে নেওয়া হবে, যেখানে বসবাসের চেয়ে পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা বেশি।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বরং স্থানীয় নির্মাণ শিল্প ও অর্থনীতি চাঙ্গা করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ট্রেন্তিনোর প্রেসিডেন্ট মরিজিও ফুগাত্তি।
কী সুবিধা মিলবে?
প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা পাবেন—
- ৮০ হাজার ইউরো (প্রায় ৮৭ হাজার ডলার) বাড়ি সংস্কারের জন্য
- ২০ হাজার ইউরো (প্রায় ২২ হাজার ডলার) বাড়ি কেনার জন্য
তবে বাড়ির মালিকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ ইউরো পর্যন্ত সংস্কার খরচ বহন করতে হবে, যার মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো (প্রায় ১৩০,০০০ ডলার) নিজ থেকে ব্যয় করতে হবে।
নিয়ম ও শর্ত:
- ১০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করতে হবে বা একই ব্যক্তিকে ভাড়া দিতে হবে।
- বাড়ি কেনার জন্য নির্দিষ্ট মূল্যসীমা নেই, তবে অনুদান মোট খরচের ৩৫-৪০% কভার করবে।
- কেউ সর্বোচ্চ তিনটি সম্পত্তি কিনতে পারবেন, যাতে পুরো গ্রাম একক মালিকানায় না চলে যায়।
- পর্যটকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় (Airbnb-এর মতো) দেওয়া যাবে না।
- ৪৫ বছরের কম বয়সী স্থানীয় বাসিন্দারা এই সুবিধা পাবেন না।
কোন শহরগুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
ভাল দি নন ও ভাল দি সোল অঞ্চলের শহরগুলোকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষ করে রাব্বি ও ভারমিগ্লিও শহরগুলো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ নিকোলা তেওফিলো বলেন, “এই উদ্যোগটি সেসব শহরগুলোর জন্য, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। যদিও এসব শহর নিজেদের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রেখেছে, তবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় সেবাসমূহের অভাব রয়েছে।”
আগামী এপ্রিল মাসে এই প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে যদি পর্যাপ্ত আবেদনকারী না পাওয়া যায় বা উপযুক্ত বাড়ি না থাকে, তাহলে তালিকা পরিবর্তনও হতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন