
জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের চাহিদা আকাশচুম্বী। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটি ৫ লাখ ৭৯ হাজার ওয়ার্ক ভিসা ইস্যু করেছে, যা এ সময়ের মধ্যে একটি রেকর্ড। নতুন এই পরিসংখ্যান জার্মানির অর্থনৈতিক কাঠামোতে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা সামনে এনে দিয়েছে।
বছরভিত্তিক ভিসা অনুমোদনের পরিসংখ্যান:
২০২১: ৯৭,০০০
২০২২: ১,৫২,০০০
২০২৩: ১,৫৮,০০০
২০২৪: ১,৭২,০০০
চার বছরের ব্যবধানে ওয়ার্ক ভিসা অনুমোদনের হার ৭৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।
জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৫.৩ লাখ শূন্য পদ রয়েছে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য। যদিও সরকার বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে, তবে দীর্ঘস্থায়ী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেক সময়ই প্রার্থীদের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার বলেন, “আমরা ২০২১ সালের তুলনায় দক্ষ অভিবাসনের হার ৭৭% বাড়িয়েছি। জার্মানি এখন একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য, যেখানে সারা বিশ্বের মেধাবীরা এসে কাজ করতে আগ্রহী।”
তিনি আরো বলেন, “দক্ষ কর্মীদের ছাড়া আমাদের অর্থনীতি টিকে থাকবে না। জার্মানিকে একটি অভিবাসীবান্ধব দেশ হিসেবেই এগিয়ে যেতে হবে।”
ভিসা প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ:
যদিও জার্মান সরকার দক্ষ কর্মীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে, তবে আবেদন প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতির। বহু আবেদনকারী কয়েক মাস অপেক্ষা করেও অনুমোদনের জন্য দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাই যথাযথ ডকুমেন্ট ও প্রস্তুতি নিয়ে আবেদন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রধান ভিসার ধরনসমূহ:
১. EU ব্লু কার্ড:
উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য উচ্চ বেতন ও চাকরির অফারের ভিত্তিতে।
২. স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা:
যাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রি রয়েছে এবং চাকরির অফার রয়েছে।
৩. জব সিকার ভিসা:
যোগ্য প্রার্থীদের ৬ মাস সময় দেওয়া হয় জার্মানিতে চাকরি খোঁজার জন্য।
৪. ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা:
অংশীদার দেশের যুবকদের জন্য, যাতে তারা জার্মানিতে কাজ ও ভ্রমণ করতে পারে।
৫. ইনট্রা-কর্পোরেট ট্রান্সফার (ICT) কার্ড:
বহুজাতিক কোম্পানির কর্মীদের জন্য এক অফিস থেকে আরেক অফিসে স্থানান্তর সহজ করতে।
প্রধান বার্তাসমূহ:
- জার্মানির অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে বিদেশি দক্ষ কর্মী অপরিহার্য
- ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতি ও পেশাদার সহায়তা নেওয়া বাঞ্ছনীয়
- সঠিক ভিসার ধরন বেছে নিয়ে আবেদন করুন
- আবেদনপত্র ও ডকুমেন্টেশন সঠিক ও পরিপূর্ণ রাখা জরুরি
জার্মানির রেকর্ড সংখ্যক ওয়ার্ক ভিসা অনুমোদন দেশটির বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীলতা ও তাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে। তবে আবেদনকারীদের জন্য সময়োপযোগী তথ্য জানা ও কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণ এখন আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়