
প্রবাসে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ মোটামুটি লোভনীয় বলা যায়। বাড়তি আয়ের আশায় সেই কাজগুলো করে থাকেন শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় কাজের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেন তারা। কেউ কেউ এমনও আছেন যে, কাজ করতে গিয়ে পড়াশোনা ক্ষতি করে ফেলেন।
পশ্চিমা দেশে যেসব শিক্ষার্থীরা যান পড়াশোনার জন্য তাদের অনেকেই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকে চান বিদেশে কাজ করে পড়াশোনার খরচ খানিকটা তুলে ফেলতে। মা বাবার উপর চাপ কমাতে।উদ্দেশ্যে ভালো হলেও, অনেক সময় স্টুডেন্টরা না জেনে, না বুঝে এমন কিছু করেন যা তাদের করা উচিৎ নয়। এতে স্টুডেন্ট ভিসায় কাজের যা শর্ত থাকে তা ভঙ্গ হয়ে যায়।পড়াশোনা বাদ দিয়ে কোনো কাজ করলে তাতে কোন সুবিধাও পাওয়া যায়না ভবিষতে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনার্স ও মাস্টার্স করতে আসা বিদেশী স্টুডেন্টদের জন্য কাজ করে ইনকাম করার সীমা থাকে। যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিদেশী স্টুডেন্টদের বেলায় কাজের সীমা সপ্তাহে ২০ ঘন্টা। অস্ট্রেলিয়া এই সীমা সাধারণত ২০ ঘন্টা। কখনো কখনো এই সীমা বাড়িয়ে ২৪ ঘন্টাও করা হয়। সাধারণত এই কাজ করার সময় সীমাটা ভিসায় উল্লেখ থাকে। কখনো সামারে এই কর্মঘন্টা বাড়ানো হয়। ফলে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সব সময় উচিত হবে কর্মঘন্টার শর্তগুলি সব সময় চেক রাখা ও তা মেনে চলা।
কর্মঘন্টার শর্ত না মানলে কী হতে পারে?
বৃটেন: সাধারণত ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারেন। সরকার যদি বিশেষ কোন কারণে কর্মঘন্টা বাড়ানোর ঘোষণা দেন সেটা ভিন্ন কথা। তার বাইরে ২০ ঘন্টার বেশি কোন ভাবে কাজ করা সম্ভব না। যদি উচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে সপ্তাহে ২০ ঘন্টার বেশি কাজ করেন তাহলে তা ভিসার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বিবেচনা করা হবে। সেক্ষেত্রে এর শাস্তি বৃটেনে মারাত্নক। সরকার চাইলে সেই শিক্ষার্থী নতুন করে কোন ভিসা না দেয়া বা পড়াশোনা শেষ না করে দেশত্যাগে বাধ্য করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে: যুক্তরাষ্ট্রেও বিদেশী স্টুডেন্টরা ২০ ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না। যদি করেন তাহলে ভিসার শর্তভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। পরে ভবিষতে আমেরিকায় কাজ করার অধিকার হারাবেন। কাজ করতে না পারলে আপনাকে নিশ্চিতভাবে দেশে ফিরতে হবে।
কানাডা: কানাডায়ও বিদেশী শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না। নিয়ম না মানলে, বেশি কাজ করলে, ভিসা স্ট্যাটাস বাতিল হতে পারে। কাজ বিষয়ে আসতে পারে নিষেধাজ্ঞা। কানাডা ছাড়তেও হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়াতেও ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা ২০ ঘন্টার বেশি কাজ করার সুযোগ পায় না।বেশি করলে, শর্ত ভঙ্গের দায়ে ভিসা বাতিল হতে পারে। শাস্তির কথা জেনেও অনেক শিক্ষার্থী সপ্তাহে ২০ ঘন্টার বাইরে হ্যান্ড টু ক্যাশ কাজ করেন লুকিয়ে। তারপরও শিক্ষার্থীদের খেয়াল রাখা উচিৎ যাতে পড়াশোনায় ক্ষতি না হয়। গ্রেড খারাপ হলে আখেরে সবই হারাতে হবে। গ্রেড খারাপের কারণে পড়াশোনা বাদ দিলে অনেক দেশে ভিসাও বাতিল করে দেয়।
তাই খেয়াল রাখুন ভিসার শর্তের দিকে। বেশি মনোযোগ দিন পড়াশোনায়।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট