মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৪০টি দেশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ১২:১৫

অনিয়মিত অভিবাসন এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া মানব পাচারকারী চক্রগুলো ভেঙে দিতে এবার আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য৷ মানব পাচারের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও আন্তর্জাতিকভাবে লড়াই করতে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি নিয়ে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে দেশটি৷
মানব পাচার ঠেকাতে এটিই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন৷ ৪০টি দেশের মন্ত্রী এবং আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে লন্ডনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়৷ ৩১ মার্চ শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে ১ এপ্রিল পর্যন্ত৷
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ এবং ইংলিশ চ্যানেলজুড়ে অভিবাসীবাহী নৌকা থামাতে নানা উদ্যোগ নিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য সরকার৷ তারই ধারাবাহিকতায় দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে নতুন নতুন উপায় খুঁজছেন৷
অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে দেশটির স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে ভয়াবহ চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে আসছে সরকার৷ এ নিয়ে দেশটির নাগরিকরাও বেশ উদ্বিগ্ন৷ এমন বাস্তবতায় অভিবাসন ব্রিটিশ রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে৷
এই সম্মেলনের নাম দেয়া হয়েছে অভিবাসন-সংক্রান্ত সংগঠিত অপরাধ (অর্গানাইজড ইমিগ্র্যান্টস ক্রাইম-ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলন৷ এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রতিটি পর্যায়ে মানব পাচার ঠেকাতে বিশেষ রূপরেখা তৈরি করা হবে৷ ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে ইংলিশ চ্যানেলে ব্যবহার করা ছোট নৌকাগুলোর সাপ্লাই চেইন ভেঙে দেয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে উৎসাহিত হতে যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, সেগুলো বন্ধ করাসহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷
সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই জঘন্য বাণিজ্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা ফাটলকে কাজে লাগায়, জাতিগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করায় এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে আমাদের একত্রিত হতে না পারার সুযোগ থেকে লাভবান হয়৷’’
গত বছর অভিবাসীদের চ্যানেল পাড়ি দিতে উৎসাহ জোগানো আট হাজারেরও বেশি বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ এছাড়া মানব পাচার চক্র ভেঙে দিতে অন্তত ছয়শ ইঞ্জিন জব্দ করা হয়েছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটা, এক্স এবং টিকটকের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন এই সম্মেলনে৷
মানব পাচারকারী চক্রকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর অবস্থান নিতে আইনও প্রণয়ন করেছে যুক্তরাজ্য সরকার৷ আইনটি দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে৷
ব্রিটিশ সরকারের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ৩৬ হাজার আটশ জনেরও বেশি মানুষ ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে এসেছেন৷ সংখ্যাটি তার আগের বছরের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি৷
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ছয়শ জনেরও বেশি মানুষ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন৷
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্র্যান্টস