Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

পশ্চিমা দেশে লাগেজে নেয়া নিষিদ্ধ যেসব পণ্য

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০৩

পশ্চিমা দেশে লাগেজে নেয়া নিষিদ্ধ যেসব পণ্য

পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে ভ্রমণে গেলে লাগেজে আপনি কী কী নিচ্ছেন, তা নিয়ে বারবার ভাবতে হবে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ‍্য ও কানাডা তাদের দেশে কিছু জিনিস লাগেজে করে নিয়ে যাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ। 

সেসব জিনিস কী? কেনই বা এসব জিনিস নেয়া নিষিদ্ধ?

বায়ো হ‍্যাজার্ড বলে কিছু জিনিস আছে, যা আপনি এসব দেশে নিয়ে যেতে পারবেন না। আপনার লাগেজ চেক হবে, বারবার চেক হবে। লাগেজ খোলা হবে। দেশগুলোতে ঢোকার আগে, ইমিগ্রেশনকে না জানিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে ঘোরতর বিপদের মুখে পড়তে হবে। এসব মালামাল জব্দ করা হতে পারে। না হয় বড় অংকের জরিমানা করা হতে পারে। নিষিদ্ধ মালামালের উপর ভিত্তি কাউকে আটক করা বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া

বিমানবন্দর দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ঢোকার সময় বেশ কিছু জিনিস সঙ্গে নেওয়া নিষিদ্ধ। নিচে কিছু প্রধান নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা দেওয়া হলো—

খাবার-দাবার যেমন তাজা ফল ও শাকসবজি, শুকনা ফল, মাংস এবং মাংসজাত পণ্য, কাঁচা মাছ এবং সামুদ্রিক খাবার, দুগ্ধজাত পণ্য। অনেকে লাগেজে করে পেঁয়াজ, রসুন, আলু নিয়ে গিয়ে বিপদে পড়েছেন। তাছাড়া ডাল, গম নেয়া নিষিদ্ধ। আরো আছে, মৌমাছির মোম ও মধু, পশুর চামড়া কিংবা লোম। কোনো প্রকার ফলের বীজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ঢোকা একেবারেই নিষিদ্ধ। এছাড়া আরো আছে মাটিযুক্ত কাঠ বা কাঠের জিনিস। কাঁচা কাঠ ও বাঁশ, পাখির ডিম ও ডিমের গুঁড়া, বিষাক্ত রাসায়নিক বা কীটনাশক। আর এক প্যাকেট সিগারেট, রান্না করা খাবার নেয়া যায় তবে বেশি নিলে ডিক্লারেশন দিতে হয়। আর ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ নিয়ে ঢুকলে তা ইমিগ্রেশনকে জানাতে হবে।  

কেন এসব জিনিস নেয়া নিষিদ্ধ অস্ট্রেলিয়ায়?

দেশটির বায়োসিকিউরিটি আইন খুব কঠোর, যাতে দেশটিতে রোগ, কীটপতঙ্গ বা দূষিত বস্তু আমদানি ঠেকানো যায়। দেশটি মনে করে, এসব পণ‍্যের কারণে দেশটিতে রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কিছু জিনিস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কিছু জিনিস নিয়ন্ত্রিত এবং কিছু জিনিস ঘোষণা দিয়ে তাদের জানিয়ে করা বাধ্যতামূলক। ইউএস কাস্টমস ও বর্ডার প্রটেকশন কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলে।

আমেরিকায় নেয়া নিষিদ্ধ খাদ‍্যপণ‍্যগুলো হলো: তাজা ফল ও শাকসবজি বিশেষত রোগ বা কীটপতঙ্গ বহন করতে পারে এমন জিনিস, মাংস এবং মাংসজাত পণ্য যেমন গরু, মুরগি, ছাগল, শূকর ইত্যাদি; দুগ্ধজাত পণ্য, কিছু প্রকার মাছ ও সামুদ্রিক খাবার (বিশেষত সংরক্ষিত বা বিপন্ন প্রজাতির), কাঁচা ডাল, চাল, গম ও অন্যান্য শস্য, কিছু ধরনের মশলা ও ভেষজ পণ্য, যেগুলো রোগ সংক্রমণ ঘটাতে পারে। 

নিষিদ্ধ প্রাণিজাত পণ্য ও উদ্ভিদগুলো হলো: জীবিত পাখি, পশু, কীটপতঙ্গ, হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোলস, গন্ডারের শিংসহ বিপন্ন প্রজাতির তৈরি জিনিস, নির্দিষ্ট কাঠ বা বাঁশজাত পণ্য, কাঁচা চামড়া, পশুর লোম, পালক ইত্যাদি। কীটনাশক বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক। তবে ওষুধ নিলে তার প্রেসক্রিপশন সাথে রাখতে হবে। ১০ হাজার ডলারের বেশি নিলে তা জানাতে হবে। 

আমেরিকায় এমন আইন না মানলে কী হতে পারে? 

যদি কেউ নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত জিনিস ঘোষণা না করে আনেন, তবে জরিমানা, পণ্য বাজেয়াপ্ত বা আইনি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

কানাডা

কানাডায় বাংলাদেশ থেকে নেওয়া নিষিদ্ধ জিনিসগুলো হলো- খাদ্যদ্রব্য- কাঁচা ফল ও শাকসবজি, মাংস ও মাংসজাত পণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য (যেমন দুধ, পনির, দই), কিছু ধরনের চাল, ডাল ও শস্য। প্রাণিজাত পণ্য যেমন, চামড়া, পালক, পশুর হাড়। না জানিয়ে, মধু নেয়া যাবে না। গাছের চারা, বীজ, মাটি, অপরিশোধিত কাঠ ও বাঁশজাত পণ্য নিতে পারবেন না। তাছাড়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ, কিছু ধরনের ভেষজ ওষুধ, অস্ত্র ও বিপজ্জনক বস্তু, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও বাজি, ছুরি, তলোয়ার বা ধারালো অস্ত্র নেয়া যাবে না। ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলারের বেশি নগদ অর্থ ঘোষণা না করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া নিষিদ্ধ জিনিসগুলোও কানাডা, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতোই। যেমন, মাংস ও মাংসজাত পণ্য (বিশেষত গরু, মুরগি, ছাগলের মাংস, তাজা ফল ও শাকসবজি, কাঁচা চাল, গম, ডাল, পশুর চামড়া, লোম, হাড়, মধু ও মৌমাছির পণ্য, গাছের চারা, বীজ, মাটি, অপরিশোধিত কাঠ ও বাঁশজাত পণ্য। পর্নোগ্রাফি বা নিষিদ্ধ বই/চলচ্চিত্র, কিছু ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক বস্তু। আর ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ নিলে, আর না জানালে অপরাধ বলে গণ‍্য হবে। 

কাস্টমস চেকিংয়ে কোনো কিছু গোপন করলে, মিথ‍্যা বললে বা ঘোষণা না করলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি শাস্তি হতে পারে। তাই কাস্টমস অফিসারের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক।

নির্দিষ্ট প্রয়োজনে দেশভেদে নিয়ম বা নিষিদ্ধ জিনিসের তথ‍্য চেক করে নেওয়া ভালো। কারণ না জেনে নিষিদ্ধ জিনিস নিলে শাস্তি থেকে মাফ পাওয়া যায় না। 

মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট। 

Logo